(বাঁ দিকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রবিশঙ্কর প্রসাদ (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
আইপ্যাক-কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল কেন্দ্রীয় বিজেপি। দিল্লির সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদের প্রশ্ন, “রাজ্যে কি কোনও তদন্ত সঠিক ভাবে হতে দেবেন না মমতা?” তৃণমূলনেত্রীকে আক্রমণ করতে গিয়ে আরজেডি নেতা লালুপ্রসাদ যাদবের প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন বিহারের পটনা সাহিবের সাংসদ রবিশঙ্কর।
রবিশঙ্কর বলেন, “গত কাল (বৃহস্পতিবার) বাংলায় যা হয়েছে, স্বাধীন ভারতবর্ষে আগে কখনও তা হয়নি।” এই সূত্রেই ওই বিজেপি নেতা বলেন, “লালুপ্রসাদের বাড়িতেও তল্লাশি হয়েছিল। লালুজি গ্রেফতার হয়েছিলেন। কিন্তু লালুজি বা রাবড়ী দেবী সিবিআই অফিসে তল্লাশি চালাতে যাননি।” একই সঙ্গে রবিশঙ্করের সংযোজন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা করেছেন, তাকে শুধু অনৈতিক, দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অসাংবিধানিক কাজ বলা যায় না। উনি সমগ্র গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাটাকেই লজ্জার মুখে ফেলে দিয়েছেন।”
আইপ্যাকের সঙ্গে তৃণমূলনেত্রীর কী সম্পর্ক, সেই প্রশ্নও তুলেছেন রবিশঙ্কর। মমতা অতীতেও এই ধরনের কাজ করে তদন্তে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। রবিশঙ্করের প্রশ্ন, দীর্ঘ দিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং ১৪ বছর একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থাকার পরেও মমতা কী ভাবে এই ধরনের ‘অসাংবিধানিক’ কাজ করতে পারেন?
বৃহস্পতিবার সকালে ইডির আধিকারিকেরা রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের সেক্টর ফাইভের দফতর এবং ওই কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে হানা দিয়েছিলেন। দুপুর ১২টা নাগাদ ইডির আধিকারিকেরা তল্লাশি চালানোর সময়েই প্রতীকের বাড়িতে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতীকের বাড়ি থেকে ফাইল-ল্যাপটপ নিয়ে নিজের গাড়িতে তুলে রাখেন। প্রতীকের বাড়ি থেকে মমতা যান আইপ্যাকের দফতরে। সেখান থেকেও কিছু ফাইল এনে মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে রাখা হয়। বিকেল ৪টে ২২ মিনিটে আইপ্যাকের দফতর থেকে বেরোন মুখ্যমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার ইডির অভিযানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন মমতা। দাবি, তাঁর দলের নির্বাচনী কৌশল হরণ করা হয়েছে। গোপনে চুরি করা হয়েছে দলের নথিপত্র। আইপ্যাক দফতরে দাঁড়িয়েই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক আক্রমণ শানান মমতা। পরে তদন্তে বাধা পাওয়ার অভিযোগ তুলে ইডি আদালতের দ্বারস্থ হয়। তাদের তরফে পাল্টা দাবি করা হয়, বেআইনি কয়লা পাচার সংক্রান্ত মামলার সূত্রেই এই তল্লাশি অভিযান। তার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নেই। ইডির তরফে এ-ও দাবি করা হয় যে, সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। জোর করে নথি ছিনতাই করে নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী প্রতীকের বাড়ি যাওয়ার পরেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ‘‘ওঁর এই কাজ অনৈতিক। আমি তদন্তের বিষয়ে ঢুকছি না। তবে মুখ্যমন্ত্রী এর আগেও সাংবিধানিক সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ করেছেন এবং তদন্তে বাধা দিয়েছেন।” মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ভাবমূর্তির কফিনে নিজেই শেষ পেরেক পুঁতে দিলেন! তিনি যা করছেন, তাকে অনৈতিক না বলাই ভাল। এটা সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত এবং ফৌজদারি অপরাধ। সরকারি সংস্থার তদন্তের কাজে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি বাধা দিয়েছেন। ইডির হাত থেকে মুখ্যমন্ত্রী ফাইল নিয়ে, হার্ড ডিস্ক নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছেন। দুর্নীতিতে লিপ্ত থাকার কথা নিজেই প্রমাণ করে দিয়েছেন।’’ প্রায় একই সুরে এ বার মমতার বিরুদ্ধে সুর চড়াল কেন্দ্রীয় বিজেপিও।