বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা ভূপেন্দ্র যাদব। বিধাননগরে। — নিজস্ব চিত্র।
কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে আলোচনা করতে এসে রাজ্যের বাজেট নিয়ে তোপ দাগলেন কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। তাঁর কটাক্ষ, রাজ্যের বাজেট আসলে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘বিদায়ী পত্র’। শাসক তৃণমূলের পাল্টা দাবি, কেন্দ্রীয় বাজেটে রাজ্যের জন্য কিছু নেই। বিধানসভা নির্বাচনের পরে প্রধান বিরোধী দলের স্বীকৃতিও হারাবে বিজেপি!
বিধাননগরের একটি হোটেলে বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রাজ্যে বিজেপির নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র অভিযোগ করেছেন, ‘‘এই রাজ্য বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর ভূমি। অথচ এখানে বিজ্ঞান শিক্ষায় কম বাজেট আর মাদ্রাসায় বেশি অনুদান বরাদ্দ করা হয়েছে।’’ তাঁর দাবি, ‘‘তৃণমূল তোষণের রাজনীতির জন্য পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের সঙ্গে আপস করছে। যদি মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে, শ্রেণি কক্ষ ডিজিটালাইজ়ড করতে, শিক্ষক নিয়োগ করতে এই অর্থ বরাদ্দ হত, তার মানে থাকত। কিন্তু তৃণমূল এই টাকা ভোটব্যাঙ্ক টিকিয়ে রাখতে বিলি করেছে।’’ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আরও দাবি, ‘‘উত্তরবঙ্গে তিন কোটি মানুষ রয়েছেন কিন্তু বাজেটে মাত্র ৯১০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। অথচ ৫,৭১৩.৬১ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষায়।’’ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার এ দিন ভূপেন্দ্রের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
তৃণমূলের বঞ্চনার অভিযোগও উড়িয়ে দিয়েছেন ভূপেন্দ্র। তাঁর দাবি, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ অপশাসনের একটি নমুনা। এখানে সরকারি টাকা লুট হয়। শুধু গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকই এক লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গকে। কিন্তু ১০০ দিনের কাজের অর্থ নয়ছয় হয়েছে। আবাস যোজনার টাকা খরচের শংসাপত্র জমা করা হয়নি। পিএম পোষণ যোজনায় দুর্নীতি হয়েছে।’’ ভূপেন্দ্রের ফের অভিযোগ, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকারের দিশা বৈঠক হয়, এই রাজ্যে একটাও হয়নি। আয়ুষ্মান ভারত, পিএম কিসান নিধি, একটাও বাংলায় চলতে দেওয়া হয়নি। রাজ্য সরকার ক্রমাগত ধার করে যাচ্ছে কিন্তু রোজগার বাড়ছে না।’’
পাল্টা তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‘রাজ্যের সমালোচনা করার আগে বিজেপি নেতারা একটি কথা বলে যান, কেন্দ্রের বাজেটে রাজ্যের জন্য কী দিয়েছেন? এক বার নাম পর্যন্ত উচ্চারণ করেননি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী!’’ তাঁর আরও মন্তব্য, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা প্রস্তাব করেন, তা-ই কার্যকর করেন। এবং রাজ্যের মানুষের সেই অভিজ্ঞতার কথা ভেবেই ভোটের আগে ভয় পাচ্ছে বিজেপি। সমাজের সব অংশকে সঙ্গে নিয়ে চলার এই চেষ্টায় নির্বাচনের পরে হয়তো বিরোধী দলের স্বীকৃতিটুকুও হারাবে বিজেপি।’’