(বাঁ দিক থেকে) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর পশ্চিমবঙ্গ সফরের খুঁটিনাটি জানতে চেয়ে রাজ্যের রিপোর্ট তলব করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফর এবং সেই সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের কী অবস্থান, বিকেলের মধ্যেই তা জানাতে হবে অমিত শাহের মন্ত্রককে।
সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহনের তরফ থেকে রবিবার সকালে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর কাছে একটি নির্দেশিকা এসেছে। সেখানে মুখ্যসচিবকে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির সফরে শনিবার দিনভর কী কী ঘটেছে, প্রশাসন কী করেছে, তা বিকেলের মধ্যে লিখিত ভাবে জানাতে হবে। বস্তুত, রাষ্ট্রপতির উত্তরবঙ্গে আসার কথা ছিল শুক্রবার বিকেলে। অনিবার্য কারণে সফর পিছিয়ে যায়। তিনি শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামেন। শিলিগুড়িতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের একটি অনুষ্ঠানে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে তার স্থান বদল হয়। সেখান থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত। ঠিক ছিল ফাঁসিদেওয়ার বিধাননগরে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। কিন্তু পরে তাঁর সফরের জায়গা বদল হয়। শিলিগুড়ির সন্নিকটে গোঁসাইপুর থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দেন তিনি।
স্থান পরিবর্তন নিয়ে রাষ্ট্রপতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে তিনি নিজেই চলে যান বিধাননগরে, যেখানে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। সেখান থেকে মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে মুর্মু বলেন, ‘‘সাধারণত রাষ্ট্রপতি এলে মুখ্যমন্ত্রীরও আসা উচিত। মন্ত্রীর থাকা উচিত। মমতা আমার ছোট বোনের মতো। জানি না, হয়তো কোনও কারণে আমার উপর রাগ করেছে।’’ জায়গা নিয়ে এর পর তিনি বলেন, ‘‘প্রশাসনের মনে কী চলছিল জানি না। আমি তো সহজে চলে এলাম। ওরা বলেছিল পর্যাপ্ত জায়গা (অনুষ্ঠান করার) নেই। এখানে এত বড় জায়গা আছে। তা-ও কেন হল না, জানি না। এখানে হলে আরও অনেক মানুষ আসতে পারতেন।’’
ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকেই এর জবাব দিয়েছিলেন মমতা। বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতি ‘বিজেপির নীতির ফাঁদে’ পড়েছেন। রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘‘বিজেপির পরামর্শে বিধানসভা ভোটের সময় রাজনীতি করবেন না। এসআইআর নিয়ে একটাও কথা বললেন না তো? কত আদিবাসীর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সেই খবর রেখেছেন? খোঁজ নিয়ে নিন, আমরা আদিবাসীদের জন্য কী কী করেছি। অন্য রাজ্য কী করেছে।’’ রাতে রাষ্ট্রপতির ‘অপমান’-এর অভিযোগ তুলে বিজেপি মাঠে নেমে পড়ে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিজেপিশাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় নেতারা পোস্ট করতে শুরু করেন। পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসন সমালোচনায় বিদ্ধ হয়। প্রধানমন্ত্রী তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘‘রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং এই পদের মর্যাদা সর্বদা রক্ষা করা উচিত। আশা করা যায়, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তৃণমূলের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।’’ পাল্টা জবাব রাত থেকেই দিচ্ছে তৃণমূল। রাতেই সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রপতির উত্তরবঙ্গ সফরে কোনও প্রোটোকল বিঘ্নিত হয়নি। ‘আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিল’ একটি বেসকরকারি সংস্থা। তাঁর কর্মসূচির বিষয়েও রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসন সমন্বয়ও রেখেছিল। গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির সচিবালয়কে জানানো হয়, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেই। তার পরেও কর্মসূচি অপরিবর্তিত রাখা হয়। শিলিগুড়ির মেয়র ছাড়াও রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে গিয়েছিলেন দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক। এর পর রাষ্ট্রপতির সফর সংক্রান্ত নথিও প্রকাশ করে দেন মমতা। তবে তার পরেও রবিবার সকালে রাজ্য সরকারের কাছে লিখিত রিপোর্ট চাইল কেন্দ্র।