প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-পর্বে এখনও পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ লক্ষ ভোটারের তথ্য যাচাই ও নিষ্পত্তি করেছেন বিচারকেরা। শুক্রবার এ কথা জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়াল। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘শনিবার ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড থেকে বিচারকরা আসবেন তথ্য যাচাই ও নিষ্পত্তির কাজের জন্য।’’
রাজ্য এসআইআর প্রক্রিয়ায় জীবিত কয়েক জন ভোটারকে ‘মৃত’ বলে চিহ্নিত করে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ প্রসঙ্গে সিইও মনোজ বলেন, ‘‘যদি কোনও জীবিতকে, মৃত ভোটার হিসাবে দেখানো হয়, তবে আমাদের কাছে অভিযোগ জানান। অভিযোগ জানালে আমরা পদক্ষেপ করব। দেখা হবে কার গাফিলতিতে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে? কেন করা হয়েছে? ইচ্ছাকৃত কেউ নাম বাদ দিয়েছেন কি না? কমিশন কি জীবিত কারও নাম বাদ দিতে পারে?’’
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে ৬৩ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাঁদের কেউ মৃত, কেউ স্থানান্তরিত, কেউ গরহাজির, কারও অন্য জায়গায় নাম রয়েছে। আরও ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ নাম ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা ‘বিবেচনাধীন’। সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদনে ওই ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারদের নথি খতিয়ে দেখছেন এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত বিচারকেরা। মনোজের শুক্রবারের দাবি অনুযায়ী এখনও রাজ্যে ৫২ লক্ষের বেশি ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের নিষ্পত্তির কাজ বাকি। তা শেষ হতে ঠিক কত দিন লাগতে পারে, তা নিয়ে কিছু জানাননি সিইও।
তবে কমিশনের একটি সূত্র বলছে আগামী দিনে কাজের গতি আরও বাড়বে। কারণ, নিষ্পত্তির কাজের জন্য বিচারকের সংখ্যা আরও বাড়ানো হচ্ছে। বিহার, ঝাড়খণ্ডের মতো প্রতিবেশী রাজ্য থেকে প্রায় ২০০ জন বিচারককে আনা হচ্ছে। তাঁরা কাজে যোগ দিলে বাছাই এবং নিষ্পত্তির গতি বেড়ে যাবে। আগামী ১০ মার্চ এসআইআর সংক্রান্ত মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে শীর্ষ আদালতে। সেখানে ৬০ লক্ষ বিচারাধীনের বিষয়টি উঠবে বলে কমিশন সূত্রে খবর। বিচারপতিদের জানানো হবে, কত লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হল, কত নামের নিষ্পত্তি বাকি এবং এই প্রক্রিয়ার সুবিধা-অসুবিধার কথা। এসআইআরের প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা গিয়েছে, রাজ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিবেচনাধীন ভোটার রয়েছেন মুর্শিদাবাদ এবং মালদহ জেলায়। প্রকাশিত ভোটার তালিকায় মালদহে ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ লক্ষ ৮৬ হাজার ২০৩। ওই জেলায় বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছে ৮ লক্ষ ২৮ হাজার ৮০ জন।