Oil and Gas Import

ইরানি হামলার আশঙ্কায় হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ, বিকল্প পথে তেল এবং গ্যাস আমদানি করতে সক্রিয় ভারত

ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ৪০ শতাংশ আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে থমকে রয়েছে ভারতীয় ৩৭টি জাহাজ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬ ২১:৩২
Amid war situation in West Asia, India is in touch with other Oil and Gas suppliers

হরমুজ প্রণালী। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে সংঘাতের আবহে হরমুজ় প্রণালীতে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ জারি করেছে ইরান। ইতিমধ্যেই সেখানে পণ্য ও তেলবাহী জাহাজের উপর ইরানি নৌসেনার হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে অপরিশোধিত তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) জোগান নিশ্চিত করতে প্রধান তেল উৎপাদক এবং সরবরাহকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। উদ্দেশ্য, পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির নতুন পথের সন্ধান।

Advertisement

সংবাদ সংস্থা এএনআই জানাচ্ছে, ভারতের তরফে বিকল্প পথে তেল এবং গ্যাস আমদানির উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) এবং পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলির সংগঠন ‘ওপেক’-এর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডা ইতিমধ্যেই ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে। ভারত অন্যান্য বিকল্প উৎসও খুঁজছে। সম্প্রতি আমেরিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে তেল আমদানি নিয়ে নতুন চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে ভারত। বর্তমানে ভারত গড়ে দৈনিক ১৯৫ ‘মিলিয়ন মেট্রিক স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটার’ (এমএমএসসিএমডি) গ্যাস কেনে। এর মধ্যে ৬০ এমএমএসসিএমডি আমদানি করা হয় কাতার থেকে। কিন্তু যু্দ্ধ পরিস্থিতিতে তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডা সেই ঘাটতি মেটাতে পারে বলে সরকারি সূত্রের খবর।

ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ৪০ শতাংশ আসে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে থমকে রয়েছে ভারতের ৩৭টি জাহাজ। যদিও বিদেশ মন্ত্রকের একটি সূত্র জানাচ্ছে, তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হতে পারে। তবে আলোচনার মাধ্যমে ‘পথ’ মিললেও ভারতমুখী তেলবাহী জাহাজগুলির জন্য বিশেষ বিমার সুবিধারর কথাও ভাবছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার। মঙ্গলবার পেট্রোপণ্যের ঘরোয়া চাহিদা পূরণের পথ খোলা রাখতে দিল্লিতে বৈঠকের পরে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী বলেছিলেন, ‘‘পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। পরিস্থিতির মোকাবিলায় ভারত পুরোপুরি প্রস্তুত। দেশ জুড়ে পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ ও মজুতের অবস্থার ক্রমাগত মনিটরিং করার জন্য আমাদের মন্ত্রক ২৪ ঘণ্টার সক্রিয় কন্ট্রোল রুম তৈরি করেছে।’’

সংবাদসংস্থা এএনআই পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের একটি সূত্র উদ্ধৃত করে জানাচ্ছে, দেশে এখন আট সপ্তাহের তেল, এলপিজি এবং সিএনজি মজুত রয়েছে। ফলে এখনই কোনও অসুবিধা না হলেও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে চাপ বাড়তে পারে ভারতের উপর। তাই আমদানির বিকল্প পথগুলি এখন থেকেই খুলতে সক্রিয়তা শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত, বর্তমানে ভারত বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানিকারক, চতুর্থ বৃহত্তম সংশোধনকারী (রিফাইনার) এবং পঞ্চম বৃহত্তম পেট্রোপণ্য রফতানিকারক। পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষের পরিস্থিতিতে বিদেশি জাহাজে অন্তত তিন ভারতীয় নৌকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। জখম হয়েছেন এক জন। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং ভারতীয় নাবিকদের দ্রুত সাহায্য করার জন্য ইতিমধ্যে একটি কুইক রেসপন্স টিম গঠন করছে জাহাজ পরিবহণ মন্ত্রক।

Advertisement
আরও পড়ুন