শুভেন্দু অধিকারী। — ফাইল চিত্র।
রাজনৈতিক ‘প্রভুদের‘ তুষ্ট করা যে অফিসারদের কাজ হতে পারে না, বুধবার ডব্লিউবিসিএস (এগজ়িকিউটিভ) অফিসারদের সঙ্গে বৈঠকে তা ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকার গঠনের পরে এই প্রথম ডব্লিউবিসিএস-দের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে ডব্লিউবিসিএস-দের জন্য একাধিক সুবিধা ঘোষণার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ‘‘আগের (তৃণমূল) সরকারের মতো বর্তমান সরকার আধিকারিকদের দলীয় কর্মীতে পরিণত করবে না।’’ যদিও আধিকারিকদের একাংশের প্রশ্ন, এই অবস্থান মুখ্যসচিব-সহ প্রশাসনের শীর্ষ-কর্তাদের সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে তো?
তবে আধিকারিকদের আরেকটি অংশের বক্তব্য, গত ১৫ বছরে কোন আধিকারিকের কী ভূমিকা ছিল, সে ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী ওয়াকিবহাল। এ দিন তিনি যে বার্তা দিয়েছেন তাতে পূর্বতন সরকারের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা এবং ‘প্রভাবশালী’ আধিকারিকেরা নিজেদের মনোভাব ও ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ পেলেন।
তৃণমূল আমলে ডব্লিউবিসিএস-দের একাংশ পুরোপুরি শাসক দলের সঙ্গে মিশে কাজ করতেন বলে বারবার অভিযোগ উঠেছে। পঞ্চায়েত-পুরসভার ভোট হোক, বা লোকসভা-বিধানসভা, ওই আধিকারিকদের উপরে কার্যত চোখ বন্ধ করে ভরসা করত তৎকালীন সরকার। অভিযোগ, নিজেদের আইনি ক্ষমতা ও রাজনৈতিক সংস্রব মিশিয়ে তৎকালীন শাসক দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতেন ওই অফিসারেরা। প্রশাসনের অন্দরের খবর, জেলাশাসক বা উচ্চ পদস্থ কর্তারাও ওই আধিকারিকদের কিছু বলার সাহস পেতেন না। বিভিন্ন জেলায় কর্মরত ওই ডব্লিউবিসিএস অফিসারেরা রীতিমতো শাসক দলের জেলা নেতা হয়ে উঠেছিলেন। সমাজমাধ্যমে তাঁদের অনেকে এমন অনেক মন্তব্য করেছিলেন, যা আধিকারিকদের বিধি-নিয়মের সঙ্গে খাপ খায় না। সূত্রের দাবি, বর্তমান সরকার যে সরকারি আধিকারিকদের দিয়ে ‘দলীয় কর্মীর’ কাজ করাবে না, সে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। ঘুরিয়ে দুর্নীতির প্রশ্নেও একাংশকে সতর্ক করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, আধিকারিকদের একাংশ ঠিক মতো কাজ করেননি। গুরুত্ব দেননি বিরোধীদের। এখন তা করা যাবে না।
বৈঠকে এ দিন মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, আধিকারিকদের জন্য কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্পের মতো করে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্প গড়ে তোলা হবে। চেষ্টা হবে জানুয়ারির মধ্যে নতুন বেতন কমিশন তৈরি করার। বিদেশ-সহ অন্যত্র যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আগে ছিল, তা ফের ফিরিয়ে আনা হবে। বদলি হলে আগের পুরনো ভাতা তিন হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করার চেষ্টা করবে সরকার। বার্ষিক পারফরম্যান্স রিপোর্ট পদ্ধতিরও সরলীকরণ করা হবে।