মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। —ফাইল চিত্র।
রাজ্যের প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়াতে এবং বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় আরও মজবুত করতে উদ্যোগ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। সোমবার নবান্ন সভাঘরে রাজ্যের ৩৪টি দফতরের সচিবদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন তিনি। সেই বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশন দেন, ১০০ দিনের কাজ চালু করে দিতে হবে।
নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও মুর্শিদাবাদ জেলায় আপাতত এই প্রকল্প শুরু করা হবে না। তবে এই দুই জেলা বাদে রাজ্যের বাকি সমস্ত জেলায় দ্রুত গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল মূলত দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও মুর্শিদাবাদ জেলায়। অভিযোগ ছিল, ভুয়ো জব কার্ড তৈরি, কাজ না করেই টাকা তোলা এবং কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের মতো অনিয়ম হয়েছে ওই দুই জেলায়। সেই সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রকৃত তথ্য সামনে আনতেই আপাতত সেখানে প্রকল্প চালু না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, এই দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতেই একসময় কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে দেয়। বর্তমান সরকার দুর্নীতির তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দুই জেলায় সতর্ক অবস্থান বজায় রাখছে।
অন্য দিকে, এ বার থেকে প্রতি মাসে নিয়মিত ভাবে সব দফতরের সচিবদের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতেই এই উদ্যোগ বলে জানা গিয়েছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তার মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে দীর্ঘ দিন ধরে আলোচনায় থাকা ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান। বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলনিকাশি ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে আগের সরকার এই প্রকল্পের কাজ শুরু করলেও, বাস্তবে তার অগ্রগতি খুব একটা হয়নি বলেই প্রশাসনিক মহলের অভিমত। সেই পরিস্থিতিতে নতুন সরকার প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগোতে চাইছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ সহযোগিতায় রূপায়িত করা হবে। প্রকল্পের ব্যয় ৫০-৫০ শতাংশ হারে বহন করবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। সেই অনুযায়ী আর্থিক বরাদ্দ এবং পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করতে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম মেদিনীপুর ও সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকার বন্যা সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব হবে।
বৈঠকে স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপর জোর দিয়ে তিনি স্বাস্থ্য দফতরের সচিবকে নির্দেশ দেন, আগামী ৮ জুনের মধ্যেই এই সংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্ত করতে হবে। রাজ্যে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প কার্যকর করার ক্ষেত্রে যাতে আর কোনও বিলম্ব না হয়, সে বিষয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
এ ছাড়াও আগামী ১১ জুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা নীতি আয়োগের বৈঠক নিয়েও প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজ্য সরকার। প্রথম বার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে সেই বৈঠকে যোগ দিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। ফলে বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প, আর্থিক অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করতে সব দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, প্রতিটি দফতরকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তথ্য ও প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে সোমবারের এই বৈঠক থেকেই প্রশাসনিক ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় ও সমন্বিত ভূমিকার ইঙ্গিত দিল নতুন সরকার।