TMC MLA Signature Controversy

নয়না, কুণাল-সহ তৃণমুলের চার বিধায়কের বাড়িতে সিআইডি! স্ক্যানারে বিধানসভায় পরিষদীয় দলের সেই চিঠি এবং স্বাক্ষর

শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের তরফে নিয়ম মেনে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল বিধানসভার সচিবকে। সেখান থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০২৬ ২৩:০৩
(বাঁ দিকে) চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ-সহ তৃণমূলের চার জন বিধায়কের বাড়িতে গেল রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি-র তদন্তকারী দল। বিধানসভায় পরিষদীয় দলের তরফে জমা দেওয়া চিঠির সঙ্গে তাঁদের স্বাক্ষরে অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। সেই তদন্তের সূত্রেই সিআইডি চার জনের বাড়িতে হানা দিয়েছিল বলে খবর। কুণালের সঙ্গে সিআইডি-র প্রতিনিধিদের দেখা হয়নি। নয়নার সঙ্গে তাঁরা কথা বলেছেন। এ ছাড়া, সিআইডি গিয়েছিল ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলাম এবং ডোমজুড়ের বিধায়ক তাপস মাইতির বাড়িতেও।

Advertisement

শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের তরফে নিয়ম মেনে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল বিধানসভার সচিবকে। সেখান থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ, বিধানসভার প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের সামনে তৃণমূলের এই বিধায়কেরা যে সই করেছেন, তার সঙ্গে পরিষদীয় দলের ওই চিঠির স্বাক্ষর মিলছে না। বিধানসভা থেকেই এ বিষয়ে হেয়ার স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। সেই সংক্রান্ত তদন্তই করছে সিআইডি। সূত্রের খবর, লালবাজারকে হস্তাক্ষর বিশেষজ্ঞ দিয়ে সাহায্য করছে সিআইডি।

সিআইডি-র একটি দল বৃহস্পতিবার দু’বার নয়নার বাড়িতে গিয়েছিল। দুপুরে চৌরঙ্গীর বিধায়ক বাড়িতে ছিলেন না বলে তাঁর সঙ্গে দেখা হয়নি। নয়নার সঙ্গে এর পর সিআইডি আধিকারিকের ফোনে কথা হয়। পরে সন্ধ্যায় নয়না বাড়ি ফিরলে আধিকারিকেরা আবার যান তালতলার বাড়িতে। সূত্রের খবর, যে দলটি এসেছিল তাতে দু’জন মহিলা এবং চার জন পুরুষ ছিলেন। তাঁদের মধ্যে এক জন ভিডিয়োগ্রাফার। তাঁর প্যান কার্ডের ছবিও তাঁরা তুলে নিয়ে যান। নয়নার কথায়, ‘‘আমি পাঁচ বারের বিধায়ক। এটা আমার কাছে অসম্মানজনক। আমি গোটা বিষয়টা বিরোধী দলনেতাকে জানিয়েছি।’’

নয়নার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ? সূত্রের খবর, পরিষদীয় দলের সেই চিঠিতে ব্লক লেটারে নাম ও তারিখ লেখার জন্য এবং শেষে সই করার জন্য তিনটি জায়গা ভাগ করা ছিল। নয়না নাম এবং তারিখ লেখার পর সই করার পর্যাপ্ত জায়গা আর সেখানে পাননি। সেই চিঠি নিয়ে এসে নয়নাকে দেখান সিআইডি আধিকারিকেরা। সেখানে তিনিই সই করেছেন কি না, জানতে চাওয়া হয়। নয়নার কথায়, ‘‘ওঁরা দু’বার এসেছেন। আমি প্রথমে বাড়িতে ছিলাম না। পরে ওঁরা আবার এলেন। আমি ভিতরে ঢুকতে বললেও বা়ড়ির ভিতরে কেউ ঢোকেননি। দরজায় দাঁড়িয়েই আমাকে চিঠি দেখালেন। জিজ্ঞেস করলেন, ‘এটা আপনার সই?’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ’। ওখানে জায়গা ছিল না বলে আমি ও ভাবে লিখেছি।’’ পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিয়ো রেকর্ড করা হয়েছে বলে দাবি করেন নয়না।

সই সংক্রান্ত বিষয়েই খোঁজ নিতে কুণালের বাড়িতে গিয়েছিল সিআইডি-র আর একটি দল। বেলেঘাটার বিধায়ক বাড়িতে ছিলেন না। তবে তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলে সিআইডি। ফোনেই কুণাল তাঁদের জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী দু’এক দিনের মধ্যে তিনি নিজে গিয়ে অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে জবাব দিয়ে আসবেন। পরিষদীয় দলের চিঠি সংক্রান্ত বিতর্ক এবং সিআইডি-র হানা প্রসঙ্গে শোভনদেব কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

Advertisement
আরও পড়ুন