Mamata Banerjee on LPG Crisis

গ্যাস নিয়ে আতঙ্কের জন্য দায়ী কেন্দ্রের ঘোষণাই, অভিযোগ মমতার! বৃহস্পতিবার জরুরি বৈঠকে ডাকলেন ডিলারদের

রান্নার গ্যাসের উদ্বেগ নিয়ে বৃহস্পতিবার নবান্নে জরুরি বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এই পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণাকে দায়ী করেছেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৬ ১৫:৪১
রান্নার গ্যাসের সঙ্কট নিয়ে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রান্নার গ্যাসের সঙ্কট নিয়ে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

রান্নার গ্যাস এবং বাণিজ্যিক গ্যাসের (এলপিজি) উদ্বেগের মধ্যে বৃহস্পতিবার জরুরি বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কী ভাবে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়ে ডিলার এবং আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। বিকল্প উপায়ের সন্ধান করবেন। বৃহস্পতিবারই জানাতে পারেন রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত। এই পরিস্থিতি তৈরির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নিউজ় ১৮ বাংলা এবং এবিপি আনন্দকে ফোনে তিনি জানিয়েছেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী সোমবার শহরে মিছিলে হাঁটতে পারেন।

Advertisement

মমতা জানান, রাজ্য সরকারের আর্থিক সমস্যা রয়েছে। তা সত্ত্বেও এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সাহায্যের জন্য তিনি এগিয়ে আসতে পারেন। তবে তাতে তেমন লাভ হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘আমি তো ভর্তুকি দিতে চাই। তাতে লাভ হবে না। কারণ, গ্যাসের জোগানই নেই! গ্রামবাংলা থেকে শহর— সকলের এতে সমস্যা হচ্ছে। আমি এটা নিয়ে কথা বলেছি। বৃহস্পতিবারই বৈঠক ডেকেছি। একটা কিছু বিকল্প ভাবা দরকার। দেখছি কী করা যায়।’’

গ্যাস রাজ্য সরকারের হাতে নেই, মনে করিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জানিয়েছেন, কেন্দ্রের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের ভুল সিদ্ধান্তের জন্য এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি দু’টি গ্যাস বুকিংয়ের মধ্যে অন্তত ২৫ দিনের ব্যবধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই ঘোষণাতেই মানুষ আরও বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘কেন ওরা বলে দিল, ২৫ দিন না হলে মানুষ গ্যাস পাবে না? পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের কাছে আমাদের দাবি, এসআইআর-এর নাম কাটার দিকে না তাকিয়ে, মানুষের অধিকার না কেড়ে গ্যাসের সমস্যা মেটান। জরুরি পরিষেবার দিকে নজর দিন। গ্যাসের জোগান যেন বন্ধ না হয়। অটো, আইসিডিএস, মিড ডে মিল, বাড়ির রান্নার গ্যাস, ছোটখাটো রেস্তরাঁর সমস্যা মেটাতে হবে। ওদের আগে মানুষের কথা ভাবা দরকার। এটা কেন্দ্রের হাতে। আমরা চাই, দ্রুত কেন্দ্রীয় সরকার পদক্ষেপ করুক।’’

এলপিজি নিয়ে উদ্বেগের মাঝে অনেক রুটে অটোর ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রেস্তরাঁয় খাবারের দাম বেড়েছে। তা নিয়ে মমতা বলেন, ‘‘যাঁরা দাম বাড়িয়েছেন, তাঁদের যুক্তি সঙ্গত। কিন্তু মানুষের কথা ভাবা দরকার। মানুষের স্বার্থে বিকল্প কিছু ভাবতে হবে। আমি বৈঠক করব। আমাদের টাকা নেই, তা-ও আমি সাহায্য করতে পারি। কিন্তু টাকা দিলেও গ্যাস পাওয়া যাবে না। ২৫ দিনের ওই ঘোষণা করাই সবচেয়ে বড় ভুল হয়েছে। এটা কেন বলল? এতেই আমার আপত্তি। আমি বিকল্প ভেবে তার পর তো ঘোষণা করব!’’ কেন্দ্রের পরিকল্পনার অভাবকেই এর জন্য দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গ্যাসের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চলতি মাস থেকেই বাণিজ্যিক গ্যাস এবং রান্নার গ্যাসের দাম এক লাফে বেশ খানিকটা বেড়ে গিয়েছে। এলপিজি সিলিন্ডার বুক করতে গিয়েই হোঁচট খাচ্ছেন অনেকে। অভিযোগ, ফোনে বুকিং হচ্ছে না। অনেকে আবার বুক করার ৮ থেকে ১০ দিন পরেও সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। লাভ হচ্ছে না গ্যাসের দফতরে গিয়েও। এই পরিস্থিতিতে গৃহস্থের হেঁশেলে টান পড়েছে। মাথায় হাত মধ্যবিত্তের। টাকা দিয়েও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। যাঁরা ইনডাকশন ব্যবহার করেন, তাঁরা কিছুটা স্বস্তিতে। তবে সঙ্কটের পরিস্থিতিতে ইনডাকশনে সব কাজ হাসিল করা সম্ভব নয়। মুখ্যমন্ত্রীও সে বিষয়ে একমত।

বুধবার বিকেলেই তেল সংস্থাগুলির সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বসেছেন মমতা। আলিপুরের সৌজন্যে সেই বৈঠকে রয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীও।

Advertisement
আরও পড়ুন