Maithon Dam

চড়া পড়েছে মাইথনে, জল নিয়ে আশঙ্কা

প্রচণ্ড গরম, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য জল ছাড়া এবং বর্ষার আগে দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (ডিভিসি)-এর মেরামতির কাজ চলা— এ সবের সামগ্রিক প্রভাবে মাইথন বাঁধের জলস্তর ধারাবাহিক ভাবে কমেছে।

চন্দন পাল
শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ ০৮:৪৭
জল কমে ডাঙা বেরিয়ে পড়েছে মাইথন জলাধারে।

জল কমে ডাঙা বেরিয়ে পড়েছে মাইথন জলাধারে। ছবি: চন্দন পাল।

ক্রমাগত কমতে থাকা জলস্তরের কারণে উদ্বেগ বাড়ছে মাইথন বাঁধ এলাকায়। বর্তমানে এই জলাধারের জলস্তর নেমে এসেছে ৪৬১ ফুটে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই কম। জল কমে যাওয়ায় দীর্ঘদিন জলের নীচে থাকা একাধিক দ্বীপ ও বিশাল পাথর এখন দৃশ্যমান। এই বিরল দৃশ্য অনেককে আকর্ষণ করলেও পর্যটন ব্যবসা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে তার বিরূপ প্রভাব পড়ছে। জলস্তর আরও নামলে ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন পুর-এলাকায় পানীয় জল সরবরাহে সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রচণ্ড গরম, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য জল ছাড়া এবং বর্ষার আগে দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (ডিভিসি)-এর মেরামতির কাজ চলা— এ সবের সামগ্রিক প্রভাবে মাইথন বাঁধের জলস্তর ধারাবাহিক ভাবে কমেছে। জল সরে যাওয়ায় নৌকার ঘাট থেকে বাঁধের দূরত্ব বেড়েছে। ফলে নৌকাচালক, ছোট ব্যবসায়ী, ও বিনোদন পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের জীবিকায় সঙ্কট দেখা দিয়েছে। পর্যটকের সংখ্যাও কমে যাওয়ায় পুরো এলাকা অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে মঙ্গলবার এই জলাধারে পর্যটকদের একটি নৌকা জলের নীচে থাকা পাথরে ধাক্কা খায়। দ্রুত নৌকায় জল ঢুকতে শুরু করে। নৌকায় থাকা প্রায় এক ডজন পর্যটকের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্পিডবোট চালক তাজউদ্দিন শেষ পর্যন্ত সব পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করেন।

জলস্তর হ্রাস পাওয়ায় মাইথন-ধানবাদ পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্প নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চিরকুন্ডা, নিরসা, কুমারধুবি, গোবিন্দপুর-সহ একাধিক এলাকায় পানীয় জলের সঙ্কট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জলসরবরাহ দফতর ও ডিভিসি-র প্রকল্প প্রধান সুবীর সাহা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে তাঁরও মতে, জলস্তর ৪৬০ ফুটের নীচে নেমে গেলে ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন পুর-এলাকা এবং শিল্পাঞ্চলে পানীয় জল সরবরাহে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এখন সকলের নজর বর্ষার দিকে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে বাঁধের জলস্তর বৃদ্ধি পাবে এবং পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন