—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে পথের আন্দোলনের গতি আরও বাড়াতে চাইছে সিপিএম। এত দিন প্রতিবাদ হচ্ছিল মূলত শ্রমিক সংগঠনের ডাকে। এ বার সরাসরি দলের তরফে আগামী কাল, শনিবার মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। শিয়ালদহ এবং হাওড়া ডিআরএম কার্যালয়ের সামনে জমায়েতের পরে দু’টি মিছিল পূর্ব রেলের সদর দফতর ফেয়ারলি প্লেসে যাবে। প্রতিবাদে সরব হয়েছে অন্য নানা দলও।
প্রতিবাদ-মিছিলের কথা জানিয়ে দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বহরমপুরে বৃহস্পতিবার বলেছেন, “উচ্ছেদের ক্ষেত্রে কোনও আইন মানা হচ্ছে না। হকারেরা গ্রামে উৎপাদিত বিভিন্ন সামগ্রীও বিক্রি করেন। তাই উচ্ছেদের ফলে গ্রামের অর্থনীতিরও ক্ষতি হচ্ছে। কাজ দেওয়ার বদলে বেকার তৈরি করছে সরকার। বহুজাতিক বিভিন্ন সংস্থার শো-রুম হবে, আর আমাদের ঘরের ছেলেমেয়েরা ডেলিভারি বয় হবেন।” সেলিমের সংযোজন, “ঘর বাড়ি না-ভেঙে যেটা ভেঙে পড়ছে, মাঠ, মন্দির, মসজিদ, হাট, বাজার, খেলার মাঠ, ঘর বাড়ি সব কিছু চলে যাচ্ছে। নদীর এই ভাঙন রোধ করার জন্য ডাবল ইঞ্জিন সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে। দলের শ্রমিক সংগঠন সিটুর রাজ্য সম্পাদক জিয়াউল আলমেরও অভিযোগ, “রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পরে চরম অনাচার চলছে। আইন-স্বীকৃত জীবিকা, হকিংয়ের উপরে বুলডোজ়ার চলছে। এটা আসলে আরএসএসের ক্ষমতা প্রদর্শন। কোনও পরিকল্পনা থাকলে রেল ও সরকারকে আলোচনায় বসতে হবে। পুনর্বাসনের দাবিতে হকারেরা সপরিবার আন্দোলনে যোগ দেবেন।”
পুনর্বাসন না-দিয়ে হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে কলকাতা পুরসভায় এ দিন দাবিপত্র দিয়েছে এসইউসি-র শ্রমিক সংগঠন এআইইউটিইউসি। ছিলেন সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক অশোক দাস-সহ অন্যেরা। নেতৃত্বের দাবি, কলকাতা পুরসভার সচিব কিশোর বিশ্বাস তাঁদের জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে হকার সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি, দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সভাপতি প্রদীপ প্রসাদের অভিযোগ, “ভবানীপুরে মেট্রো গেট থেকে ১৫০ মিটারের মধ্যে হকার বসতে দেবে না ডাবল ইঞ্জিন সরকার। গরিবের ভোটে জিতে গরিবের পেটেই লাথি মারছেন এঁরা!” পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতিও বুলডোজ়ার-রাজের অভিযোগ তুলে এবং স্মার্ট মিটারের প্রতিবাদে ১৪ জুলাই কলকাতা পুরসভা অভিযানের ডাক দিয়েছে। সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে হবে জমায়েত।