—প্রতীকী চিত্র।
বিধানসভা ভোটের মুখে আলুচাষির আত্মহত্যার ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে পুরাতন মালদহে। পরিবারের দাবি, ঋণ নিয়ে চাষ করে ক্ষতির মুখে পড়ায় সোমবার আত্মঘাতী হন বিপতি রাজবংশী (৬১) নামে ওই কৃষক।বাড়ি তেলিপুকুরে।
বিপতি নিজের এক বিঘা এবং তিন বিঘা জমি লিজ নিয়ে আলু চাষ করেছিলেন। সোমবার রাত ৯টা নাগাদ কীটনাশক খান তিনি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ময়না-তদন্তের জন্য দেহ পাঠানো হয় মালদহ মেডিক্যালে। মৃতের মেয়ে সাতো রাজবংশী বলেন, “বাবা দেনা করে জমিতে আলু বুনেছিলেন। এ বার আলু চার-পাঁচ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বৃষ্টিতে জমির আলু নষ্ট হয়েছে। রাতে ঠিক মতো ঘুমাতে পারতেন না বাবা।” মৃতের ভাই বিষ্ণু রাজবংশী বলেন, “এ বার আলুর দাম নেই। তার উপরে বৃষ্টিতে জমির আলু নষ্ট হওয়ায় দাদা ভেঙে পড়েছিলেন।”
ফোন ও মোবাইল-বার্তায় এ দিন যোগাযোগ করা যায়নি মালদহের জেলাশাসক রাজনবীর সিংহ কপূরের সঙ্গে। ফোন ধরেননি কৃষি দফতরের উপ-অধিকর্তা বিদ্যুৎ বর্মণও। তবে কৃষি বিপণন দফতরের দাবি, রাজ্যে ৯টি জেলায় সহায়ক মূল্যে আলু কেনা হচ্ছে। সে জেলার মধ্যে মালদহের নাম নেই। কারণ, সরকার কৃষকদের থেকে ‘জ্যোতি’ আলু সহায়ক মূল্যে কিনছে। মালদহে সব চেয়ে বেশি উৎপাদিত হয় ‘পোখরাজ’ আলু। ‘সুফল বাংলা স্টল’-এর জন্য কৃষকদের থেকে জেলায় আলু কেনার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আলু চাষিদের অরাজনৈতিক সংগঠন ‘অন্নদাতা’র জেলা সভাপতি বাসুদেব রাজবংশী বলেন, “এ বার আলুচাষিদের আত্মহত্যা ছাড়া উপায় নেই। চাষিরা আলুর দাম পাচ্ছেন না। রাজ্যের সরকারও জেলার কৃষকদের কাছ থেকে সহায়ক মূল্যে আলু কিনছে না।” বামপন্থী কৃষক সংগঠন ‘কৃষকসভা’র জেলা সম্পাদক প্রণব চৌধুরী বলেন, “মালদহেও সরকারি মূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে আলু কেনা উচিত রাজ্যের সরকারের। তবে রাজ্যের সরকার চুপ করে বসে রয়েছে। আর কৃষকেরা ঋণের দায়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছেন। কারণ, বাজারে আলুর দাম নেই।”
মঙ্গলবার সকালে মৃত চাষির পরিবারের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে তরজায় জড়িয়ে পড়েন তৃণমূল এবং বিজেপির প্রার্থীরা। বিজেপি প্রার্থী গোপালচন্দ্র সাহা বলেছেন, “রাজ্য সরকার কৃষকদের জন্য কিছু করেনি। রাজ্য কেন্দ্রের ফসল বিমা যোজনাও চালু করতে দিচ্ছে না। তৃণমূল সরকারের উদাসীনতায় আলুচাষিকে আত্মহত্যা করতে হল।” তৃণমূল প্রার্থী লিপিকা বর্মণ ঘোষ বলেন, “বিজেপি প্রার্থী আলুচাষিদের সঙ্গে রিল বানাতে ব্যস্ত। চাষিদের পাশে তৃণমূল আছে।”