SIR in West Bengal

পাঁচ দশক ধরে ওকালতি করেও এসআইআরে বাদ

সুপ্রিম কোর্টে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচাপতি ভি মোহনার বেঞ্চ পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের জন্য তৈরি আপিল ট্রাইব্যুনালকে মহম্মদ ইয়ান আলির আবেদন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে শোনার নির্দেশ দিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ ০৬:৪৬

—প্রতীকী চিত্র।

মুর্শিদাবাদের পঁচাত্তর বছর বয়সি আইনজীবী মহম্মদ ইয়ান আলি পাঁচ দশক ধরে ওকালতি করছেন। ১৯৭৭ সাল থেকে তিনি রাজ্যের বার কাউন্সিলের সদস্য। তার পরেও এসআইআরে ইয়ান আলির নাম বাদ গিয়েছিল। আপিল ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হলেও গত তিন মাসে তাঁর আপিলের ফয়সালা হয়নি। বাধ্য হয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দরজায়।

সুপ্রিম কোর্টে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচাপতি ভি মোহনার বেঞ্চ আজ পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের জন্য তৈরি আপিল ট্রাইব্যুনালকে মহম্মদ ইয়ান আলির আবেদন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে শোনার নির্দেশ দিল। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেছেন, আপাত ভাবে মনে হচ্ছে মামলাকারী প্রকৃত নাগরিক ও পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা।

শীর্ষ আদালতে এখন গ্রীষ্মকালীন ছুটি চলছে। প্রধান বিচারপতি এ দিন অবকাশকালীন বেঞ্চে বসেছিলেন। ইয়ান আলির হয়ে আইনজীবী শাকিল শেখ বলেন, মামলাকারী গত ৫০ বছর ধরে জেলা আদালতে ওকালতি করছেন। পাঁচ দশক ধরে তিনি ভোট দিচ্ছেন। ২০০২ সালের এসআইআর-এর আগেও তিনি ভোট দিয়েছেন। তার পরেও এ বারের এসআইআর-এ তাঁর নাম কাটা গিয়েছে। গত ২৭ মার্চ তিনি ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। কিন্তু আবেদন ঝুলে রয়েছে। প্রধান বিচারপতি বলেন, প্রাথমিক ভাবে আদালত সহমত যে মামলাকারী পশ্চিমবঙ্গের প্রকৃত নাগরিক বলেই মনে হচ্ছে। তবে হাই কোর্টের অবসরপরাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে। গত কাল রাতেই কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, বহু আবেদন ট্রাইবুনালে ঝুলে রয়েছে। তার জন্য বাড়তি সময় দরকার। মামলাকারীর আবেদন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ট্রাইবুনালকে শুনতে বলা হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের পরে মুর্শিদাবাদের লালবাদে ইয়ান আলি বলেন, ‘‘এখনও রায় দেখিনি। তবে আইনজীবীর সঙ্গে কথা হয়েছে। গত ২০ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টে মামলা করি। বিষয় ছিল, এসআইআরে সমস্ত প্রক্রিয়া যেন নির্বাচন কমিশনই দেখে, আদালত নয়। বিচারের নামে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা কেড়ে আদালত নিজের হাতে তুলে নিয়েছে। আইনে এই অধিকার আদালতকে দেওয়া হয়নি।’’ তিনি বলেন, ‘‘আমার নাম যেমন ভোটার তালিকায় নেই, তেমন আরও বহু মানুষের নাম বাদ পড়েছে। তারও নিষ্পত্তি চেয়েছিলাম। বহু বৈধ ভোটার হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আমার প্রার্থনা ছিল, হয়রানি ও আতঙ্কের হাত থেকে বাঁচাতে বাতিল ৩৩ লক্ষ ভোটারের নাম উঠবে কি না তার দায়িত্ব কমিশনের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।’’

আরও পড়ুন