সোমবার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যেরা। ছবি: সংগৃহীত।
অগ্নিমিত্রা বলেন, “এই মুহূর্তে বাসের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারি বাসের যা পরিকাঠামো রয়েছে, সেটিই আমরা ব্যবহার করব। জুন মাসে আমরা বাজেট পেশ করব। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, কিছু নতুন বৈদ্যুতিক বাস নেব আমরা।”
অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা বলেন, “যাঁরা লক্ষ্মীর ভান্ডার পেতেন, তাঁদেরই নাম অন্নপূর্ণ ভান্ডার প্রকল্পে ট্রান্সফার হয়ে যাবে। সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার হবে। যাঁরা এত দিন পাননি, তাঁরাও আবেদন করতে পারবেন। শীঘ্রই পোর্টাল খোলা হবে।” তিনি আরও জানান, যাঁরা সিএএ-র জন্য আবেদন করেছেন বা ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন, তাঁরাও অন্নপূর্ণা ভান্ডার পাবেন।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনস্ত চাকরি এবং সরকারি পদে অন্য অনগ্রসর শ্রেণির জন্য সংরক্ষণের শতকরা হার, রাজ্য তালিকাভুক্ত অন্য অনগ্রসর শ্রেণির তালিকা পুনর্বিবেচনা এবং উপশ্রেণিবিভাগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মন্ত্রিসভায়। অগ্নিমিত্রা বলেন, “নতুন করে এনকোয়ারি হবে। হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী যে গোষ্ঠীগুলিকে সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, রাজ্য সরকার সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।”
অগ্নিমিত্রা বলেন, “তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের অধীনস্ত ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে প্রদত্ত সহায়তামূলক প্রকল্প বন্ধ হবে। এই মাসে চলবে। পরের মাস থেকে এটা বন্ধ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।”
রাজ্যের সরকারী কর্মীদের জন্য বেতন কাঠামো সংশোধনের জন্য সপ্তম রাজ্য বেতন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিল মন্ত্রিসভা।
১ জুন থেকে রাজ্যের সকল সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে পরিবহণ প্রকল্পে নীতিগত অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা।
নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ দফতরের অধীনে অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্প নীতিগত অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠক করেছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পাঁচ মন্ত্রী। পঞ্চায়েত, কৃষি বিপণন ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতর এবং পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, ক্রীড়া ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, খাদ্য ও খাদ্য সরবরাহ দফতরের মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া এবং আদিবাসী উন্নয়ন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজকুমার অগ্রবালও।
নতুন মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হল সরকারি কর্মীদের মহার্ঘভাতা (ডিএ)। পূর্বতন সরকারের আমলে রাজ্য সরকারি কর্মী সংগঠনগুলির সঙ্গে সরকার পক্ষের দীর্ঘ আইনি লড়াই হয়েছে। এ অবস্থায় সোমবারের বৈঠকে শুভেন্দুর মন্ত্রিসভা ডিএ নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কি না, সে দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সরকারি কর্মীরা।
মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, তারও আভাস আগেই দিয়ে রেখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, এই বৈঠকে আরজি কর-সহ রাজ্যে নারী নির্যাতনের অভিযোগ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগের পাশাপাশি রাজ্যের সরকারি কর্মীদের জন্য বেতন কমিশন, মহার্ঘভাতা (ডিএ) এবং এরিয়ারের বিষয়েও আলোচনা হবে।
রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠিত হওয়ার পরে গত সপ্তাহের সোমবার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক বসেছিল। ওই বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, “পশ্চিমবঙ্গে সুশাসন, সুরক্ষা এবং ডবল ইঞ্জিন সরকারের যে নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে, তা দেশের অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যের উন্নয়নের পথ অনুসরণ করেই এগোবে।” তিনি সংবিধানপ্রণেতা বাবাসাহেব অম্বেডকরের ‘ফর দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, অফ দ্য পিপল’-এর আদর্শ অনুসরণ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।