শেখ শাহজাহান। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
সেটা ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি। রেশন দুর্নীতির মামলার তল্লাশি অভিযানে সন্দেশখালির শাসক দলের নেতা শেখ শাহজাহানের বাড়িতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ইডির তদন্তকারী অফিসার এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা। হাই কোর্টের নির্দেশে রাজ্য পুলিশের কাছ থেকে তদন্তভার নিয়ে শাহজাহান, তার ভাই আলমগির-সহ ১১ জনকে গ্রেফতারও করে সিবিআই। কিন্তু দু’বছর ধরে চার জন এখনও পলাতক। তদন্তকারীদের মতে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-পর্বে তাদের পাকড়াও করার আশার উদয় হয়েছে।
শাহজাহান-সহ পাঁচ জন জেল হেফাজতে। এর পরে বিক্ষিপ্ত ভাবে শাহজাহান ঘনিষ্ঠদের কয়েক জনকে সিবিআই গ্রেফতার করেছে। তাদের মধ্যে দুরন্ত মোল্লা, আলিম মোল্লা প্রমুখ রয়েছে। কিন্তু শাহজাহান ঘনিষ্ঠ রানাবাবু লস্কর, আবু তালেব শেখ, হাসিবুর মোল্লা ও আজিজুর রহমানের মতো চার জন অভিযুক্তের কেশাগ্রও তদন্তকারী দলের নাগালের বাইরে।
সিবিআই সূত্রে দাবি, বসিরহাট আদালতের তরফে ওই চার জনের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এবং বসিরহাট জেলা পুলিশকে ওই চার জনকে গ্রেফতার করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে আদালত। কিন্তু দু’বছরে তাতে ফল মেলেনি। স্থানীয় পুলিশের তরফে ওই চার জনকে ধরতে তেমন তৎপরতা চোখে পড়েনি বলেই সিবিআই সূত্রে অনুযোগ। পুলিশ অবশ্য তা মানতে নারাজ। এসআইআর-পর্বে ওই চার জনের নথি জমা পড়লে তাদের ধরার সম্ভাবনা বাড়বে, আশা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের। ওই চার জনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়ার তোড়জোড় করছে সিবিআই।
সিবিআইয়ের তদন্তকারীদের দাবি, শাহজান ঘনিষ্ঠ ওই চার জন অত্যন্ত প্রভাবশালী। তাই গা-ঢাকা দিয়েও তারা এসআইআরের নথি জমা দিতে পারে। ওই নথি জমা পড়লে সেই সূত্র ধরে তাদের পাকড়াও করার সম্ভাবনা বাড়বে। বিষয়টি বসিরহাট আদালতের বিচারকের কাছে পেশও করা হবে।
সিবিআই সূত্রে দাবি, ফেরার ওই চার অভিযুক্ত সন্দেশখালির কুমোরপাড়া, মল্লিকপাড়া এবং আকুঞ্জি এলাকার বাসিন্দা। ওই চার জনের মধ্যে দু’জনের সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্রের কপি তদন্তকারীদের হাতে আছে। অভিযুক্তদের হদিশ পেতে ওই ভোটার আইডি কার্ড দু’টির এপিক নম্বর নির্বাচন কমিশনে জমা দেবে সিবিআই।