Egg Attack

পুলিশি প্রশ্রয়ে কি বাড়ছে ডিম ছোড়া

পুলিশের নিচুতলার কর্মীরাও ধৃত ব্যক্তিকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে ডিমের নিশানার মুখে পড়ছেন। তাঁরাও কেউ কেউ ডিমের ঘায়ে গায়ে আঁশটে গন্ধ মেখে অতিষ্ঠ।

মিলন হালদার
শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ ০৯:২৩
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

থানা কিংবা আদালত চত্বরে বার বার একই দৃশ্য। ধৃতকে হেলমেট পরিয়ে এনেও রেহাই নেই। সদ্য প্রাক্তন শাসক-শিবিরভুক্ত নেতা, মন্ত্রী থেকে ছোটখাটো মাতব্বর পর্যন্ত জনতার নিক্ষিপ্ত ডিম-অস্ত্রের নিশানা হচ্ছেন। খাস কলকাতা থেকে গোটা রাজ্য জুড়ে এই প্রবণতার পিছনে কি আসলে কাজ করছে পুলিশ-প্রশাসনের মদত? অন্তত চোখের সামনে এই ধরনের ঘটনা ঘটে চললেও পুলিশ কেন সে-ভাবে পদক্ষেপ করছে না? এই প্রশ্নগুলোও এ বার উঠতে শুরু করেছে।

মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআরের মতে, এই ঘটনা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন। বিচার করে অভিযুক্তকে শাস্তি দেবে আদালত। কোনও অভিযুক্তের উপরে যতই আক্রোশ থাক, তাঁকে ডিম মারা বরদাস্ত করা যায় না। এপিডিআর মনে করিয়ে দিচ্ছে, পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করলে তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্ব পুলিশেরই। আইনজীবী সেলিম রহমান বলছেন, “অভিযুক্তকে ডিম মারা বেআইনি কাজ। এই ঘটনার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা পুলিশের কর্তব্য।” বৃহস্পতিবারও কিন্তু আলিপুর জাজেস কোর্টে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে ডিম থেকে বাঁচতে জনৈক আইনজীবীর ঘরে আশ্রয় নিতে হয়। বাইরে হাতে ডিম নিয়ে মারমুখী ভঙ্গিতে তৈরি ছিলেন আইনজীবীরা।

প্রশ্ন উঠছে, পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন কেন অভিযুক্তকে ডিম ‘খেতে’ হবে? অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে থানায় আনার সময়ে বা আদালতে পেশের সময়ে ডিম হাতে বিক্ষুদ্ধ জনতাকে সেখানে জমায়েত হতে দেওয়া হচ্ছে কেন? এপিডিআর-এর সহ-সভাপতি রঞ্জিত শূরের অভিযোগ, “ডিম মারার এই সব ঘটনা পুলিশি হেফাজতে বন্দি নির্যাতনের সমান। এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন রয়েছে। ভারতও তার অংশীদার। কিন্তু সেই আইন মানা হচ্ছে না। পুলিশের সচেতন নিষ্ক্রিয়তার কারণেই এই রকম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে।”

পুলিশের নিচুতলার কর্মীরাও ধৃত ব্যক্তিকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে ডিমের নিশানার মুখে পড়ছেন। তাঁরাও কেউ কেউ ডিমের ঘায়ে গায়ে আঁশটে গন্ধ মেখে অতিষ্ঠ। তাঁরাও বলছেন, কোনও ধৃত ব্যক্তিকে ডিম মারা তো পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার শামিল। তা হলে কড়া পদক্ষেপ কেন হচ্ছে না? লালবাজারের এক উচ্চপদস্থ কর্তা বলেন, “এমন ঘটা উচিত নয়। ডিম ছোড়ার ঘটনা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমন যাতে না ঘটে, তা-ও নিশ্চিত করা হবে।” প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে ডিম ছুড়ে মারার অভিযোগে দুই অভিযুক্তকে অবশ্য গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে দু’জনেই জামিন পেয়ে গিয়েছেন।

ডিমের বিপদ নিয়ে সতর্ক করে আইনজীবী শেখ সেলিম রহমান বলছেন, “ছোড়া ডিম চোখে লাগলে চোখ নষ্টও কিন্তু হতে পারে। ডিম শরীরের সে রকম জায়গায় লাগলে বড় বিপদ ঘটবে না কে বলতে পারে। সে ক্ষেত্রে ডিম নিক্ষেপকারীদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার মামলা করে গ্রেফতারও করতে পারে পুলিশ। পুলিশ অভিযুক্তকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে ডিম ছোড়া হলে সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার মামলাও হতে পারে।” একই কথা বলছেন আইনজীবী তথা ব্যাঙ্কশাল আদালতের অ্যাডভোকেট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক প্রবীর মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “ডিম ছোড়ার বিরুদ্ধে অবশ্যই পুলিশের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ধৃতদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হওয়া দরকার।”

আরও পড়ুন