শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাস দক্ষিণবঙ্গের জেলায় জেলায়। —ফাইল চিত্র।
চৈত্রের শুরু থেকেই রাজ্যে ঝড়বৃষ্টির দাপট। কোথাও শিলাবৃষ্টি হচ্ছে, কোথাও ঝড়ে উপড়ে যাচ্ছে গাছ। আপাতত আরও কিছু দিন এই পরিস্থিতি চলবে বলে মনে করছেন আবহবিদেরা। কারণ, বঙ্গোপসাগর থেকে এখনও প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করছে। তার ফলে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আগামী আরও চার দিন ঝড়বৃষ্টি চলতে পারে জেলায় জেলায়।
দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি, ঝড় এবং শিলাবৃষ্টি হতে পারে। ঝড়ের গতি পৌঁছে যেতে পারে ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টাতেও। উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে উত্তরের জেলাগুলিতেও হতে পারে শিলাবৃষ্টি। আপাতত একাধিক জেলায় কমলা সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস। কলকাতাতেও বৃষ্টি হবে। তবে ভারী বৃষ্টি বা প্রবল ঝড়ের সম্ভাবনা এখনই নেই। বিক্ষিপ্ত ভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং থেকে থেকে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে শহরে। রইল আগামী চার দিনের পূর্বাভাস—
বৃহস্পতিবার: বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া, হুগলি, বীরভূম, এবং পশ্চিম বর্ধমানে বিক্ষিপ্ত ভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া বইবে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে। প্রতি জেলাতেই শিলাবৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে হাওয়ার বেগ থাকবে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে। উত্তরে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ির অনেক জায়গায় শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার বেগ থাকবে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে।
শুক্রবার: ঝড়বৃষ্টির দাপট বাড়বে দক্ষিণবঙ্গে। পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, হুগলি এবং হাওড়ায় ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের সতর্কতা রয়েছে। সঙ্গে হতে পারে শিলাবৃষ্টি। বাকি জেলাগুলিতে ঝড়ের বেগ থাকবে ৫০-৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টি এবং শিলাবৃষ্টি হবে দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ির কোনও কোনও অংশে।
শনিবার: শিলাবৃষ্টির সঙ্গে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইতে পারে মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে। দক্ষিণের বাকি জেলাগুলিতে ঝড়ের গতি থাকবে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার। উত্তরে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে ভারী বৃষ্টি এবং শিলাবৃষ্টি চলবে। সঙ্গে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
রবিবার: পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়ায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে। উত্তরেও দুর্যোগ কিছুটা কমবে।
উত্তর এবং দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী বুধবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলতে পারে। উত্তর ওড়িশা সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের উপকূলের কাছে সমুদ্রের উপর ঝোড়ো হাওয়া বইবে। তার বেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার বেগ পৌঁছে যেতে পারে ৬০ কিলোমিটারেও। শুক্রবার এবং শনিবার মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে হাওয়া অফিস।