RG Kar Victim’s Family

আরজি কর-কাণ্ডে পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল-সহ তিন জনের গ্রেফতারির দাবি! কোর্টে আবেদন নির্যাতিতার পরিবারের

পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতিতার দেহের দ্বিতীয় বার ময়নাতদন্তে বাধা দেওয়া হয়েছিল। নথি পরিবারের কাছে হস্তান্তর না-করে তড়িঘড়ি দেহ দাহ করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তিন জনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি তুলেছে তারা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৩ মে ২০২৬ ১৭:২৩
আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদে স্থাপিত ‘ক্রাই অফ দ্য আওয়ার’ মূর্তি।

আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদে স্থাপিত ‘ক্রাই অফ দ্য আওয়ার’ মূর্তি। —ফাইল চিত্র।

আরজি কর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় আরও তিন জনের গ্রেফতারির দাবি তুলল নির্যাতিতার পরিবার। পানিহাটির তৎকালীন বিধায়ক নির্মল ঘোষের গ্রেফতারির আর্জি জানিয়েছে তারা। পাশাপাশি সোমনাথ দাস এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় নামে দু’জনেরও গ্রেফতারির দাবি তুলেছে পরিবার। ওই তিন জনের গ্রেফতারি চেয়ে বুধবার শিয়ালদহ আদালতের দ্বারস্থ হয় নির্যাতিতার পরিবার।

Advertisement

পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতিতার দেহের দ্বিতীয় বার ময়নাতদন্তে বাধা দেওয়া হয়েছিল। নথি পরিবারের কাছে হস্তান্তর না-করে তড়িঘড়ি দেহ দাহ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ওই অভিযোগগুলির প্রেক্ষিতে প্রাক্তন বিধায়ক-সহ ওই তিন জনের গ্রেফতারির দাবি তুলেছে নির্যাতিতার পরিবার। বুধবার শিয়ালদহ আদালতে তারা আবেদন জানায়, ওই তিন জনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। শুনানির জন্য সিবিআইয়ের আইনজীবীও পৌঁছোছেন আদালতে।

আদালতে সিবিআইয়ের আইনজীবী সওয়াল করেন, “তদন্তকারী কাকে গ্রেফতার করবে, তা কেউ নির্দেশ দিতে পারে না। আমরা একটা জবাব দিতে চাই।” তখন নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী পাল্টা সওয়াল করেন, “তার মানে আপনারা সময় চাইছেন। এটা ভাল যে ওঁরা ভাবনাচিন্তা করছেন। তিন জনের বিরুদ্ধে আমরা হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চেয়েছি। ঘটনার পর তিন জন সক্রিয় হয়ে গেলেন— এর মধ‍্যে প্রথম নির্মল ঘোষ। দ্বিতীয় সঞ্জীব মুখোপাধ‍্যায়। ইনি আগে বামপন্থী ছিলেন, পরে সময়ের সঙ্গে রং বদলেছেন। তাঁরা দেহ হাইজ‍্যাক করে নেন।” পরিবারের আইনজীবী আরও জানান, ২০২৪ সালে দেওয়া চার্জশিটে বলা হয়েছিল অতিরিক্ত চার্জশিট দেওয়া হবে। কিন্তু এখনও দেওয়া হয়নি। দু’পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারক জানান, আগামী ৫ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

এ বারের নির্বাচনে নির্মলের পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। তাঁর বিপরীতে বিজেপি প্রার্থী করেছিল আরজি কর-কাণ্ডে নিহত নির্যাতিতার মা-কে। ভোটে তৃণমূল প্রার্থীকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন নির্যাতিতার মা। নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার আগেই শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, আরজি কর-কাণ্ডে নতুন করে কমিশন বসানো হবে। বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত হওয়ার পরে প্রথম ভাষণে শুভেন্দু বলেছিলেন, ‘‘সন্দেশখালি থেকে আরজি কর হয়ে যত জায়গায় মা-বোন-কন্যাদের অত্যাচার করা হয়েছে, তা নিয়ে কমিশন বসবে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে।’’

বুধবার সকাল থেকে বিধায়কদের শপথগ্রহণ পর্ব শুরু হয়েছে বিধানসভায়। পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী, উত্তর ২৪ পরগনার জয়ী প্রার্থীদেরও বিধায়কপদে শপথ রয়েছে বুধবারই। তবে এরই মাঝে বুধবার আদালত চত্বরে পৌঁছে যান নির্যাতিতার মা। সেখানে তিনি বলেন, “এটার প্রায়োরিটি আগে। আমার মেয়ে আমার গোটা পৃথিবী ছিল। আমার এই জায়গাটা থাকবে মেয়ের জন্য অন্তত।”

Advertisement
আরও পড়ুন