CM Mamata Banerjee at Singur

সিঙ্গুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতার সভায় দূষণ রুখতে কলকাতা থেকে গেল জল ছড়ানোর মেশিন! নির্দেশে মেয়র ববি

বিধানসভা ভোটের আগে আবার রাজ্য রাজনীতির আলোচনায় সিঙ্গুর। প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর সভার ১০ দিন পর বুধবার সেখানে প্রশাসনিক সভা করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:১৯
Mamata Banerjee and Firhad Hakim

(বাঁ দিকে) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

সিঙ্গুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক সভার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। এর মধ্যে মঙ্গলবার বিকেলে হুগলি জেলার ওই এলাকায় ওয়াটার স্প্রিংক্লার পাঠালেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। সভাস্থলে বায়ুদূষণ রুখতে এবং সকলের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর।

Advertisement

সিঙ্গুর গ্রামীণ এলাকা। শীতের শেষে বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়েছে। এমতাবস্থায় মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে প্রচুর ভিড়ের সম্ভাবনা। তাই ধুলো উড়তে পারে। বাড়তে পারে দূষণমাত্রা। তাই আগেভাগে ব্যবস্থা নিল প্রশাসন। সভাস্থলে ধুলোবালি যাতে না-ওড়ে, সে জন্য কলকাতা পুরসভা থেকে গিয়েছে ওয়াটার স্প্রিংক্লার। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদের নির্দেশে ৫টি ওয়াটার স্প্রিংক্লার সিঙ্গুরের গিয়েছে বলে খবর।

বিধানসভা ভোটের আগে আবার রাজ্য রাজনীতির আলোচনায় সিঙ্গুর। প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর সভার ১০ দিন পর বুধবার সেখানে প্রশাসনিক সভা করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। মঙ্গলবার সভাস্থল পরিদর্শন করতে গিয়ে মন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেন, ‘‘সিঙ্গুরের পবিত্র মাটিতে দাঁড়িয়ে মোদী মিথ্যা, কুৎসা এবং অপপ্রচার করে গিয়েছেন। বাংলাকে অপমান করে গিয়েছেন। বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাকে ওঁরা বঞ্চনা করছেন। সেই বঞ্চনার জবাব দিতে আগামিকাল মুখ্যমন্ত্রী সভা করবেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘মোদী সিঙ্গুর তথা হুগলি তথা বাংলাকে কিছু দিতে পারেননি। আগামিকাল মুখ্যমন্ত্রী সিঙ্গুরে আসছেন উন্নয়নের ডালি নিয়ে।’’

উল্লেখ্য, ১০ দিন আগে যেখানে মোদীর সভা হয়েছিল, সেখান থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে মমতার সভা। গত ১৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরে টাটার মাঠে একাধিক সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাস করেন প্রধানমন্ত্রী। ২৮ জানুয়ারি মমতা যাচ্ছেন সিঙ্গুরের বারুইপাড়া পলতাগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ইন্দ্রখালি এলাকায়। বাংলার বাড়ি প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের সহায়তা প্রদান করবেন তিনি। পাশাপাশি রাজনৈতিক জনসভাও রয়েছে তাঁর। বেচারাম বলেন, ‘‘মোদীর সভায় ৪০ হাজার লোক হয়েছিল। এখানে ২ লক্ষের বেশি লোক আসবেন। তাই এই জায়গায় সভা করা হচ্ছে।’’ অন্য দিকে, মমতার সভা নিয়ে বিজেপির রাজ্য সম্পাদক দীপাঞ্জন গুহের খোঁচা, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী সিঙ্গুরে পাল্টা সভা করতে আসছেন। যে শিল্পকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী রাজনীতিতে উত্থান হল, সেখানে শিল্প কোথায়? বিবাদ মিটিয়ে সিঙ্গুরে সত্যিকারের শিল্প নিয়ে আসুন। তাহলে সিঙ্গুর তথা হুগলিবাসীর মঙ্গল হবে।’’

ইতিমধ্যে মঞ্চ তৈরির কাজ শেষ। গোটা এলাকা মুড়ে ফেলা হয়েছে তৃণমূলের পতাকায়। তার মধ্যে দূষণ রুখতে পৌঁছে গিয়েছে জল ছড়ানোর মেশিনও।

Advertisement
আরও পড়ুন