টেনিস তারকা তথা বিজেপি নেতা লিয়েন্ডার পেজ। —ফাইল চিত্র।
বিজেপির হয়ে রাজ্যসভায় যাওয়ার জল্পনার আবহেই প্রথম বার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় উপস্থিত হলেন ভারতের টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজ। মঙ্গলবার বিধানসভায় তিনি রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তাঁর কাজের ভূয়সী প্রশংসাও করেন লিয়েন্ডার।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যসভার তিনটি আসন শূন্য হওয়ায় লিয়েন্ডারের নাম রাজনৈতিক মহলে বিশেষ ভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে। ৪ মে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তাসের ঘরের মতো ভাঙতে শুরু করেছে তৃণমূল। বিধায়কেরা নিজেদের বিরোধী দলনেতা চয়ন করেছেন। লোকসভার সাংসদেরা এনসিপিআই নামে একটি রাজনৈতিক দলে যোগদান করে দিল্লিতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। অন্য দিকে, সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইক তৃণমূলের রাজ্যসভার আসন থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। ওই তিন আসনের একটিতে লিয়েন্ডারকে সংসদের উচ্চকক্ষে পাঠানো হতে পারে বলেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
লিয়েন্ডার মঙ্গলবার বলেন, “এখানে আসতে পারাটা দারুণ অভিজ্ঞতা। পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেক বিজেপি কর্মী অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং আমাদের নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে আমরা আরও সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাব বলে আমার বিশ্বাস।”
পর্যটনমন্ত্রী প্রসঙ্গে লিয়েন্ডার বলেন, “এই তরুণ মন্ত্রীর কাঁধে বড় দায়িত্ব রয়েছে। বাংলার পর্যটন শিল্পকে আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠতে হবে। আমার সমর্থন থাকবে, যাতে সারা বিশ্ব তাঁর কাজ দেখতে পায়। পাহাড়, সমুদ্র, নদী, দুর্গাপূজা, খেলাধুলো ও শিক্ষার মতো ক্ষেত্রগুলিতে বাংলার সাফল্য আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরতে হবে।”
লিয়েন্ডারের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে রাজ্যসভা-জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও বিজেপির পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এবং বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদারের উপস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দেন লিয়েন্ডার। তবে রাজনীতিতে তাঁর পথচলা নতুন নয়। এর আগে গোয়া বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। পরে সেই অধ্যায়ের ইতি টেনে বিজেপির হয়ে নতুন রাজনৈতিক ইনিংস শুরু করেন দেশের অন্যতম সফল টেনিস তারকা। এখন রাজনৈতিক মহলের নজর একটাই প্রশ্নে— লিয়েন্ডার পেজ কি এ বার রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে নতুন দায়িত্ব নিতে চলেছেন? জবাব মিলবে আগামী দিনে।