TMC MLA Dilip Mondal

সারদার মাটি চুরি করে কোটি কোটি টাকা আয়, ধৃত বিধায়ক দিলীপের বিপদ বাড়িয়ে নতুন এফআইআর

সারদা চিট ফান্ড তদন্তের সময় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) সারদা গোষ্ঠীর যে সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছিল, তার মধ্যে রয়েছে বিষ্ণুপুরের সারদা গার্ডেন। প্রায় ১০০ একর জমির উপর সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন তৈরি করছিলেন একটি বিলাসবহুল আবাসন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ ১৭:০৪
Fresh FIR of corruption against Bishnupur TMC MLA Dilip Mondal

বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল। —ফাইল চিত্র।

পুরী থেকে ধৃত বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের বিরুদ্ধে এ বার কোটি কোটি টাকা মাটি চুরির অভিযোগ প্রকাশ্যে এল। ১৮ মে বিষ্ণুপুর থানায় ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাসের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর নথিভুক্ত করেছে বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ।

Advertisement

সারদা চিট ফান্ড তদন্তের সময় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) সারদা গোষ্ঠীর যে সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছিল, তার মধ্যে রয়েছে বিষ্ণুপুরের সারদা গার্ডেন। প্রায় ১০০ একর জমির উপর সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন তৈরি করছিলেন একটি বিলাসবহুল আবাসন।

লিখিত অভিযোগে অভিজিৎ জানিয়েছেন, সরকারি ভাবে ওই বিশাল সম্পত্তি ইডি হেফাজতে থাকলেও, নিজের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় বিধায়ক দিলীপ এবং তাঁর অনুচরেরা গত এক দশকের বেশি সময় ধরে ওই সারদা গার্ডেন থেকে মাটি কেটে পাচার করছে। অত্যাধুনিক ‘আর্থ মুভার’ দিয়ে একরের পর একর জমির মাটি কেটে বাজারে বিক্রি করেছে দিলীপের দলবল। অভিযোগ, মাটি কেটে বিক্রি করে গোটা জমির চরিত্র পরিবর্তন করা হয়েছে এবং সামগ্রিক প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। অন্য দিকে, মাটি চুরির পাশাপাশি সারদা গার্ডেনের ভিতরে অসমাপ্ত যে বাংলোগুলি রয়েছে সেগুলি বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহার করা হয়েছে এবং সেখানে কুখ্যাত অপরাধীরা আশ্রয় নিত বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিজিৎ দাসের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মাটি বিক্রি করে কয়েকশো কোটি কাটা বেআইনি ভাবে রোজগার করেছে দিলীপের সিন্ডিকেট।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, পশ্চিমবঙ্গ ভূমি রাজস্ব আইন, পরিবেশ আইন থেকে শুরু করে খনিজ সম্পদ নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় এফআইআর করেছে পুলিশ। ইডি সূত্রে খবর, তৃণমূল সরকারের আমলে তাঁরা একাধিক বার বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি দখল হয়ে যাচ্ছে জানিয়ে পুলিশের সাহায্য চেয়েছিলেন, কিন্তু প্রয়োজনীয় সহায়তা মেলেনি। অভিজিতের করা এফআইআরের খবর পেয়েছেন ইডি আধিকারিকরা এবং তাঁরা এর ভিত্তিতে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করা যায় কি না খতিয়ে দেখছেন। অভিজিতের করা অভিযোগপত্রে এক নম্বরে রয়েছে দিলীপ মন্ডলের নাম। এছাড়াও রয়েছে দিলীপ ঘনিষ্ঠ আরও ২২ জনের নাম।

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দিলীপের নাম শিরোনামে আসে, যখন নির্বাচন উত্তর হিংসার অভিযোগে পুলিশ পৈলানে দিলীপের বাড়িতে বিধায়কের খোঁজে হানা দেয়। দিলীপকে সেদিন পাওয়া না গেলেও, তাঁর বিশাল প্রাসাদসম বাড়ি, সুইমিংপুল এবং বাড়ির মধ্যে ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানা চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে। ফেরার অবস্থাতেই সমাজমাধ্যমে দিলীপ দাবি করেন, পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে ওই বাড়ি তৈরি করেছেন। তার কয়েকদিনের মধ্যেই ফ্রেজারগঞ্জ থেকে বেআইনি অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয় দিলীপের ছেলে অর্ঘ্য এবং তার তিন সঙ্গীকে। প্রায় ১৩ দিনের লুকোচুরির পর পুরীর একটি হোটেল থেকে রাজ্য পুলিশ পাকড়াও করে দিলীপকে। তার মাঝেই নতুন এই এফআইআর আরও বিপদ বাড়ালো এই বিধায়কের।

Advertisement
আরও পড়ুন