Sabyasachi Dutta Case

ঘনিষ্ঠ টিনার থেকে তিন কিলো সোনা উদ্ধারের দিনই আদালতে আনা হল সব্যসাচীকে! উঠে এল আরও তিন কিলো সোনার কথা

মঙ্গলবারের শুনানিতে সরকার পক্ষের আইনজীবী আদালতে জানান, সব্যসাচীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়েছে। বিধায়ক থাকাকালীনই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সব্যসাচী।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ ১৭:৩২
Hearing of TMC leader Sabyasachi Dutta\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\'s case at Bidhannagar Court

(বাঁ দিকে) টিনা ভৌমিক এবং সব্যসাচী দত্ত (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

সব্যসাচী দত্তকে গ্রেফতারির পর তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। সেই তল্লাশি অভিযানে কী কী পাওয়া গিয়েছে, মঙ্গলবার আদালতে তারই হিসাব দিল তারা। জানানো হয়েছে, সব্যসাচীর মামলায় এখনও পর্যন্ত মোট ছ’কেজি সোনা বাজেয়াপ্ত হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, দেড় কেজি রুপো বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ও আদালতে জানিয়েছে পুলিশ। যদিও সব্যসাচীর আইনজীবী আদালতে জানান, একাধিক জিনিস বাজেয়াপ্ত করা হলেও তার কোনও তারিখ দেওয়া হয়নি। শুনানি শেষে সব্যসাচীকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

Advertisement

মঙ্গলবারের শুনানিতে সরকার পক্ষের আইনজীবী আদালতে জানান, সব্যসাচীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়েছে। বিধায়ক থাকাকালীনই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সব্যসাচী। সেই কারণে মামলাটি এমএলএ-এমপি আদালত বা স্পেশাল কোর্টে স্থানান্তরিত হবে বলে জানান সরকারি আইনজীবী। দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন জুড়লে এই মামলার শুনানি আর বিধাননগরের আদালতে হবে না।

সোমবার রাতে রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ককে নদিয়ার করিমপুরে নিয়ে গিয়েছিল বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। সেখানকার কিশোরপুর এলাকায় তৃণমূল নেত্রী তথা নদিয়া জেলা পরিষদের সদস্য টিনা ভৌমিক সাহার পৈতৃক বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশি অভিযানে উদ্ধার হয় কেজি কেজি সোনা। আদালতে সেই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, তল্লাশি অভিযানে তিন কেজি সোনা পাওয়া গিয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা। স্থানীয়দের দাবি, সব্যসাচীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত টিনা। এ ছাড়াও, সব্যসাচীর রাজারহাটের ফ্ল্যাট, ব্যাঙ্কের লকার থেকে সোনা-রুপো উদ্ধারের কথাও আদালতে জানায় পুলিশ।

সব্যসাচীর রাজারহাটের ফ্ল্যাট এবং ব্যাঙ্কের লকার মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন কেজি সোনার সন্ধান পেয়েছিলেন তদন্তকারীরা। তার আগে সব্যসাচী এবং তাঁর স্ত্রী ইন্দ্রানী দত্তের পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত (ফ্রিজ়) করেছে পুলিশ। সব মিলিয়ে সব্যসাচী এবং তাঁর ঘনিষ্ঠের কাছ থেকে ছ’কেজির বেশি সোনা উদ্ধার হয়। এ ছাড়াও দেড় কেজি রুপো উদ্ধারের কথাও আদালতে জানায় পুলিশ। এই মামলার তদন্ত হবে এক জন এসিপির তত্ত্বাবধানে।

সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘প্রথম পর্যায়ে এই মামলার তদন্ত তোলাবাজির উপর দাঁড়িয়েছিল। এখন সেটা দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের দিকে বাঁক নিয়েছে। আরও বেশ কিছু অভিযোগ আসছে। সব মিলিয়ে তদন্ত হবে।’’ তিনি এ-ও জানান, সব্যসাচী এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের থেকে বাজেয়াপ্ত হওয়া সম্পত্তি পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি টাকা।

Advertisement
আরও পড়ুন