West Bengal Weather Update

দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টি! ৭০ কিমি বেগে ঝড় পাঁচ জেলায়, কলকাতাতেও জারি কমলা সতর্কতা, কোথায় কী পূর্বাভাস

বুধবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। পুরুলিয়ায় ঝড়বৃষ্টি চলছে। বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে কলকাতাতেও।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ ১৮:০৫
দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস।

দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। —ফাইল চিত্র।

উত্তরের পাশাপাশি এ বার দক্ষিণবঙ্গেও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। যদিও ভারী বৃষ্টি আপাতত একটি জেলাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে ঝড়বৃষ্টি হবে আগামী দু’তিন দিন। তাতে তাপমাত্রা কিছুটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। গরমে মিলবে স্বস্তি।

Advertisement

বুধবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। পুরুলিয়ায় ঝড়বৃষ্টি চলছে। কলকাতাতেও বুধবার কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। ভারী বৃষ্টি (৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার) হতে পারে পূর্ব বর্ধমানের কিছু কিছু এলাকায়। এ ছাড়া, পশ্চিম বর্ধমান, নদিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং হুগলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। কলকাতা-সহ দক্ষিণের বাকি জেলায় ঝড়ের গতি থাকবে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার। দক্ষিণবঙ্গ জুড়েই কমলা সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস।

শুক্রবার ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রামে। দক্ষিণের বাকি জেলাগুলিতে ঝড়ের বেগ থাকবে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা।

শনিবার ঝড়বৃষ্টি কিছুটা কমবে। তবে পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, দুই মেদিনীপুর এবং বীরভূমে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। ঝোড়ো হাওয়ার বেগ থাকবে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার। রবিবারও পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ২ জুন পর্যন্ত দক্ষিণের সব জেলাতেই কমবেশি বৃষ্টি হবে।

উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে জলপাইগুড়ির কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি চলবে। বাকি জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সঙ্গে চলবে ঝোড়ো হাওয়া। শুক্রবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা জারি রয়েছে।

হাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর ছত্তীসগঢ় এবং সংলগ্ন ওড়িশার উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। সমুদ্রতল থেকে তার উচ্চতা ১.৫ কিলোমিটার। উত্তর-পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ থেকে দক্ষিণ উপকূলীয় ওড়িশা পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা রয়েছে। তা ঘূর্ণাবর্তের উপর দিয়ে গিয়েছে। সমুদ্রতল থেকে অক্ষরেখাটি রয়েছে ০.৯ কিলোমিটার উঁচুতে। এ ছাড়া, বিহার থেকে তেলঙ্গানা পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা বিস্তৃত। সমুদ্রতল থেকে তার উচ্চতাও ১.৫ কিলোমিটার। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে ঢুকছে। ফলে সমগ্র উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণের কিছু অংশে ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি রয়েছে। সেই সঙ্গে গরমের অস্বস্তিও থাকবে।

পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন সমুদ্রের উপর ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইছে। কখনও কখনও দমকা হাওয়ার বেগ পৌঁছে যাচ্ছে ৬০ কিলোমিটারেও। ওই এলাকায় সমুদ্র উত্তাল রয়েছে। বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার সেখানে মৎস্যজীবীদের যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

বুধবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে এক ডিগ্রি বেশি। মঙ্গলবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হয়েছিল ৩৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৫ ডিগ্রি বেশি। ঝড়বৃষ্টির কারণে বৃহস্পতিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা দুই থেকে তিন ডিগ্রি কমতে পারে।

Advertisement
আরও পড়ুন