Annapurna Yojana Scheme

১ জুন থেকে শুরু হবে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ প্রকল্প! কারা, কী ভাবে আবেদন করতে পারবেন, জানিয়ে দিল অর্থ দফতর

আগামী ১ জুন থেকে পোর্টাল খুলবে। সেখানে আবেদন করতে হবে। ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ প্রকল্পে যে আবেদন হবে, সেইগুলির সরকারি অনুমোদনে বিডিও যাচাই করবে গ্রামে। মহকুমাশাসক করবে শহরে। কলকাতা পুরসভা এলাকায় যাচাই করবে পুরসভার আধিকারিকেরা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২০ মে ২০২৬ ০৩:৪০
রাজ্যে চালু হচ্ছে অন্নপূর্ণা ভান্ডার।

রাজ্যে চালু হচ্ছে অন্নপূর্ণা ভান্ডার। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আগামী ১ জুন থেকে শুরু হবে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ প্রকল্প। এই প্রকল্পে প্রতি মাসে মহিলারা ৩ হাজার টাকা করে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাবেন। কী ভাবে টাকা ঢুকবে এবং কারা কবে থেকে আবেদন করতে পারবেন— তা নিয়ে একটি বিবৃতি মঙ্গলবার জারি করেছে অর্থ দফতর। ভোটপ্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বার বার মহিলাদের জন্য অন্নপূর্ণা ভান্ডারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। গত সোমবার নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ দফতরের অধীনে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ প্রকল্প নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

Advertisement

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১ জুন থেকে প্রতি মাসে মহিলারা তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে পাবেন। যাঁরা লক্ষ্মীর ভান্ডার পেতেন, তাঁদের নাম ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ প্রকল্পে ট্রান্সফার হয়ে যাবে। সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে যাবে। যাঁরা ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্প করেননি, তাঁরাও ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন। যাঁরা আবেদন করবেন তাঁদের বয়স হতে হবে ২৫-৬০ বছরের মধ্যে।

আগামী ১ জুন থেকে পোর্টাল খুলবে। সেখানে আবেদন করতে হবে। ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ প্রকল্পে যে আবেদন হবে, সেইগুলির সরকারি অনুমোদনে বিডিও যাচাই করবে গ্রামে। মহকুমাশাসক করবে শহরে। কলকাতা পুরসভা এলাকায় যাচাই করবে পুরসভার আধিকারিকেরা। পুরসভার কমিশনার যাচাইয়ের কাজ করবেন। অনুমোদিত আবেদনগুলি পোর্টালে আপলোড করা হবে। আবেদনের পরে তদন্ত করা হবে। তার পরেই তাঁরা তাঁদের ব্যাক অ্যাকাউন্টে টাকা পাবেন।

কারা এই প্রকল্পের টাকা পাবেন না?

• কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের স্থায়ী চাকরি করলে হবে না।

• পেনশনভোগী হলেও হবে না।

• রাজ্য সরকারের অনুমোদিত শিক্ষক, অশিক্ষক পদে কর্মরত থাকলে পাবেন না।

• পঞ্চায়েত কর্মীও পাবেন না।

• আয়কর দিলে তিনিও পাবেন না।

• ২০২৬ সালের এসআইআর অনুসারে, যাঁরা মৃত, বাদ পড়েছেন, অনুপস্থিত, নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে— তাঁদের ট্রাইবুনালে আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পাবেন না।

তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প ছিল ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মহিলাদের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মমতা। ২০২১ সালে ভোটে জিতেই সেই প্রকল্প চালু করেন তিনি। প্রথমে মাসিক ৫০০ টাকা দিয়ে শুরু হয় ওই প্রকল্প। তার পরে ধাপে ধাপে সেই টাকার পরিমাণ বেড়েছিল। পূর্বতন সরকারের শেষ বাজেটে লক্ষ্মীর ভান্ডারে টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে মাসিক দেড় হাজার করা হয়েছিল। আর তফসিলি জাতি ও জনজাতি মহিলাদের জন্য মাসে ১,৭০০ টাকা করে দেওয়া হত। তবে ২০২৬ সালে ভোটের আগে মমতার তৈরি করা অস্ত্রেই মমতাকে হারানোর কৌশল নেয় বিজেপি। তারা তাদের সংকল্পপত্রে জানায়, মহিলাদের স্বাবলম্বী করতে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

Advertisement
আরও পড়ুন