Suicide

‘অসঙ্গতি’র কারণে এসআইআরে বাদ পড়ে নাম! আতঙ্কে আত্মঘাতী রিষড়ার প্রৌঢ়া, অভিযোগ ছেলের

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় রিষড়া থানার পুলিশ। তারা দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। মৃতার পুত্র এবং প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ১২:১৬
A woman found death in her house amid SIR process

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

নামে বিভ্রাট। মিনতি সেন হলেও আধার কার্ডে ছিল মিনু সেন! সেই বিভ্রাটের কারণে এসআইআরে নাম বাদ পড়ে। আর তা নিয়েই বেশ কয়েক দিন ধরে দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন বলে পরিবারের অভিযোগ। শনিবার রাতে ওই প্রৌঢ়ার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় ঘর থেকে। মৃতার পুত্রের দাবি, এসআইআরে নাম বাদ পড়ায় মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। সেই কারণে আত্মহত্যা করেছেন ৫৮ বছরের মিনতি।

Advertisement

রিষড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বারুজীবী এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার রাতের দিকে তাঁর ঘরে আলো জ্বলছিল না। বাড়িতে একাই ছিলেন তিনি। ছেলে ভোলা সেন কাজে গিয়েছিলেন। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হয়ে গেলেও ঘরে আলো না-জ্বলায় সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। তাঁরা ডাকাডাকি করতে থাকেন। সেই সময় বাড়ি ফেরেন ভোলা। সকলে মিলে ঘরে ঢুকে প্রৌঢ়াকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর দেওয়া হয় পুলিশে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছোয় রিষড়া থানার পুলিশ। তারা দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ভোলা এবং প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। ভোলার অভিযোগ, এসআইআরে নাম বাদ যাওয়ার কারণে মানসিক অবসাদ গ্রাস করেছিল তাঁর মাকে। এমনিতেই তাঁর কিছু মানসিক সমস্যা ছিল। নাম বাদ যাওয়ার পর সব সময় চিন্তা করতেন মিনতি।

ভোলার কথায়, ‘‘ভোটার লিস্টে মায়ের নাম ছিল না। আমাকে সব সময় বলতেন, এখানে থাকতে দেবে না। আমি বলতাম কিছু হবে না। তাও চিন্তা করত। কয়েক দিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিল।’’ ভোলা আর মিনতি ছাড়া ওই বাড়িতে কেউ থাকতেন না। ফলে ভোলা কাজে বেরিয়ে গেলে সারাদিন একাই থাকতেন মিনতি। নাম বাদ পড়ায় চিন্তাও করতেন সব সময়, দাবি প্রতিবেশীদের। শুধু মিনতি নয়, ভোলার নামও নেই ভোটার তালিকায়। তিনি জানান, আবেদন করা হয়েছে। তবে আদৌ নাম উঠবে কি না, তা বুঝতে পারছেন না তিনি।

খবর পেয়ে রবিবার সকালে মৃতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান শ্রীরামপুরের তৃণমূল প্রার্থী তন্ময় ঘোষ। মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি-কে দুষলেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘বিজেপি মানুষের জীবন নিয়ে ছেলেখেলা করছে। এর জবাব মানুষ দেবে। আমরা রাজনীতি করতে আসিনি। আমরাই ছিলাম, আমরাই থাকব। এটা আমাদেরও ব্যর্থতা যে ওঁকে (মিনতিকে) বোঝাতে পারিনি। ভয়াবহ পরিস্থিতি। নির্বাচন কমিশনের মতো একটা সাংবিধানিক সংস্থা। তবে একটা নিরপেক্ষ সংস্থাকে যে কায়দায় কাজে লাগাচ্ছে বিজেপি, এর থেকে খারাপ আর কী হতে পারে।’’ কী কারণে মৃত্যু, তদন্ত চায় বিজেপিও। শ্রীরামপুরের বিজেপি প্রার্থী ভাস্কর ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘কী কারণে ওই প্রৌঢ়া মারা গিয়েছেন, সেটা দেখার দায়িত্ব তৃণমূলের নয়। অনেক কারণেই মৃত্যু হতে পারে। যে কোনও মৃত্যুই দুঃখজনক। তবে কী কারণে মৃত্যু, তা জানার জন্য তদন্ত হওয়া দরকার।’’

Advertisement
আরও পড়ুন