রাস্তায় দাঁড়িয়ে ওই যুবক। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া।
চোখ বন্ধ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রয়েছেন রাস্তায়। এক জায়গায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দুলে চলছেন ক্রমাগত। তবে এগোচ্ছেন না। বেঙ্গালুরুর রাস্তায় এক যুবককে ওই অবস্থায় দেখতে পাওয়ায় উদ্বেগ ছড়াল শহর জুড়ে। দাবি, বিশেষ ‘জ়ম্বি’ মাদক খেয়ে ও রকম অবস্থা হয়েছে ওই যুবকের। সেই ঘটনা সংক্রান্ত একটি ভিডিয়োও ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় নিশ্চল দাঁড়িয়ে রয়েছেন এক যুবক। তাঁর চোখ বন্ধ। ক্রমাগত দুলে যাচ্ছেন। কিন্তু এক পা এগোচ্ছেন না। কোনও প্রতিক্রিয়াও নেই তাঁর মুখে। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। উদ্বেগও ছড়িয়ে পড়েছে ভিডিয়োটিকে কেন্দ্র করে। দাবি, বেঙ্গালুরুর বাগালুর এলাকায় একটি কলেজের কাছে ক্যামেরাবন্দি করা হয়েছে ঘটনাটি।
ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসার পরেই নেটাগরিকদের একাংশ দাবি করেছেন, বেঙ্গালুরু শহরে প্রবেশ করেছে ‘জম্বি ড্রাগ’। আর তা সেবন করেই ওই হাল হয়েছে যুবকের। যদিও ওই যুবকের ওই অবস্থা যে বিশেষ মাদক সেবনের কারণেই হয়েছে, সেই সংক্রান্ত পোক্ত প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। যুবক কে বা কী কারণে তিনি ওই অবস্থায় ছিলেন, তা-ও স্পষ্ট নয়।
ভাইরাল ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে ‘সনাতন_কন্নড়’ নামের একটি এক্স হ্যান্ডল থেকে। পোস্টে লেখা, ‘‘উদ্বেগজনক! মারাত্মক ‘জম্বি ড্রাগ’ (জ়াইলাজ়িন মিশ্রিত পদার্থ), যা ব্যবহারকারীদের নিশ্চল, সম্মোহিত ‘জ়ম্বি’তে পরিণত করে। এটি মনে হচ্ছে বেঙ্গালুরুতে প্রবেশ করেছে। নিট্টে কলেজের কাছে বাগলুর থেকে উদ্বেগজনক খবর আসছে। অভিভাবক, যুবক-যুবতী এবং পুলিশ অত্যন্ত সতর্ক থাকুন! এটি আমাদের শহরের জন্য একটি গুরুতর সতর্কবার্তা। খুব দেরি হওয়ার আগেই জেগে উঠুন!” ভিডিয়োটি ছড়িয়ে পড়ার পরেই বেঙ্গালুরুর ইয়েলাহাঙ্কা পুলিশস্টেশনের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলা হয়, “স্যর, আমাদের বিস্তারিত বিবরণ দিন।” বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে।
ভিডিয়োটি দেখার পর বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটাগরিকেরাও। এক জন লিখেছেন, “এই ভিডিয়ো দেখে ভয় পেলাম। আমি আশা করি যুবক প্রয়োজনীয় সাহায্য পাবেন। যুবক মনে হয় একটা দুষ্টচক্রের শিকার।” অন্য এক জন আবার লিখেছেন, ‘‘জম্বি ড্রাগ হল জ়াইলাজ়িন। কিন্তু এর কার্যকারিতা বাড়াতে এবং খরচ কমাতে এটিকে ক্রমবর্ধমান ভাবে ফেন্টানিল বা হেরোইনের সঙ্গে মেশানো হচ্ছে।”
কয়েক দিন আগে অনুরূপ ঘটনার সাক্ষী হয়েছিল চণ্ডীগড়ও। সেই ঘটনায় চণ্ডীগড়ের সেক্টর ৩৩বি-তে পার্ক করা একটি গাড়ির কাছে একজন ডেলিভারি কর্মীকে স্থির ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। সেই ভিডিয়োকে কেন্দ্র করেও উদ্বেগ ছড়িয়েছিল।