অভিষেকের হাত থেকে তৃণমূলের দলীয় পতাকা নিলেন বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি সূরেশ সাউ। সাহাগঞ্জের ডানলপ ময়দানে। ছবি: তাপস ঘোষ
ঘোষণামতো রবিবার সাহাগঞ্জের ডানলপ মাঠে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনীয় জনসভায় গিয়ে ওই দলে যোগ দিলেন বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি সুরেশ সাউ। তুললেন ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। তাঁর সঙ্গে বিজেপির একাধিক নেতা ও কয়েকশো কর্মী-সমর্থকও তৃণমূলে নাম লেখান।
এই যোগদানের পরেই অভিষেকের দাবি, ‘‘হুগলিতে বিজেপির বিসর্জনের খুঁটিপুজো হয়ে গেল। ৪ মে (ভোটের ফল ঘোষণার দিন) আনুষ্ঠানিক বিসর্জন হবে। সে দিন রবীন্দ্রসঙ্গীত অবশ্যই বাজবে। তবে, কিছু জায়গায় হাল্কা করে ডিজে বাজানোর প্রয়োজন আছে। সেটাও বাজাতে হবে।’’ সুরেশ বলেন, ‘‘বিজেপি এমন একটা দল, যেখানে আমার মতো কর্মীদের কোনও গুরুত্ব নেই। তাই দল ছাড়তে বাধ্য হলাম।’’
সুরেশের দলত্যাগ নিয়ে বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, ‘‘বিজেপি একটা সমুদ্র। বহুজন আসে, বহুজন যায়। সুরেশের মনে হয়েছে, গিয়েছে। আমাদের ভোটে কোনও প্রভাব পড়বে না।’’
সভা থেকে বিজেপি শাসিত রাজ্যে মহিলাদের উপরে অত্যাচার, বিজেপির ইস্তাহার, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার টাকা আটকে রাখা— নানা বিষয়ে সরব হন অভিষেক। তুলে ধরেন তৃণমূলের নানা উন্নয়নের খতিয়ান। অভিষেকের দাবি, বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ‘যুবসাথী’র লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদন করতে দেখা গিয়েছে। অথচ, বিজেপি নেতারা সেই প্রকল্পকেই খাটো করছেন। তিনি বলেন, ‘‘মহিলাদের উপরে অত্যাচারে সোনা, রুপো, ব্রোঞ্জ মেডেল সবই বিজেপির দখলে। আফগানিস্তানের তালিবান আর বিজেপির মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই।’’ তবে, তাঁর প্রায় ৪০ মিনিটে ভাষণে একবারও কংগ্রেস কিংবা সিপিএমের নাম শোনা যায়নি। বিজেপি অভিষেকের অভিযোগ মানেনি।
এ দিন সকাল থেকে ব্যান্ডেলের নলডাঙায় জিটি রোডের পাশে সার দিয়ে ম্যাটাডর দাঁড়াতে শুরু করে। সাড়ে ১১টার পর সুরেশের নেতৃত্বে সেই সব ম্যাটাডর ও শতাধিক মোটরবাইক সহযোগে দলত্যাগে ইচ্ছুক বিজেপি নেতা-কর্মীদের মিছিল ডানলপ মাঠের উদ্দেশে রওনা দেয়।
বিজেপি চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থী হিসেবে সুবীর নাগকে বেছে নেওয়ার পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছিলেন সুরেশ। তার আভাস পেয়েছিল দলও। তাঁর ক্ষোভ প্রশমনে কার্যত দলের নিয়ম ভেঙে দ্রুত জেলা কমিটির নবম সহ-সভাপতি করা হয়। তবে, সুরেশের মন গলেনি। দিন কয়েক আগে সেই পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে দলীয় নেতৃত্বের কাছে চিঠি দেন সুরেশ। শনিবার বিকেলে গৌতম জানিয়েছিলেন, সুরেশ পদত্যাগপত্র জমা দিলেও গ্রহণ করা হয়নি।
বিজেপি সূত্রের খবর, শনিবার রাতে এ রাজ্যে নির্বাচন ও সংগঠনের দায়িত্বে থাকা বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা চুঁচুড়ায় দলের জেলা অফিসে সুরেশকে নিয়ে বৈঠকে বসেন। কিন্তু সুরেশের মানভঞ্জনের সেই শেষ চেষ্টাও বৃথা যায়। রবিবার অভিষেকের মঞ্চে সুরেশের পাশাপাশি বিজেপির বাঁশবেড়িয়া মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায়, দলের হুগলি জেলা যুব মোর্চা সাধারণ সম্পাদক প্রভাত গুপ্ত, হুগলি জেলা যুব মোর্চা সহ-সভাপতি রাজেশ যাদব, সপ্তগ্রামে দলের আইটি ইনচার্জ সুমিত অধিকারী, চুঁচুড়া মণ্ডলের প্রাক্তন যুব সভাপতি পবন চৌধুরী, হুগলি সাংগঠনিক জেলা সোশ্যাল মিডিয়া সহ-আহ্বায়ক অর্ণব দাস, হুগলি জেলা এসসি-এসটি মোর্চার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ দাসেরাও তৃণমূলে যোগ দেন।