LPG Gas Crisis

জ্বালানির খোঁজে হাওড়ায় ভিড় ‘বহিরাগতের’, ক্ষোভ অটোচালকদের

হাওড়া আঞ্চলিক পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়া স্টেশন, সালকিয়া, জিটি রোড-সহশহরের আশপাশের মোট ২০টি রুটে অটো চলে প্রায় ৯০০টি। কিন্তু এলপিজি না পাওয়ায় সেইসংখ্যা এখন কমে অর্ধেকে হয়েছে। এর জেরে তীব্র ভোগান্তি শুরু হয়েছে।

দেবাশিস দাশ
শেষ আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৬ ০৮:২০
পাম্পে জ্বালানি ভরার অপেক্ষায় অটোচালকেরা। হাওড়ার গোলাবাড়িতে।

পাম্পে জ্বালানি ভরার অপেক্ষায় অটোচালকেরা। হাওড়ার গোলাবাড়িতে। ছবি: দীপঙ্কর মজুমদার।

এলপিজির তীব্র আকালের জেরেপ্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছে হাওড়ার ২০টি রুটে অটো চলাচল। ফলে অফিস বা কাজের সময়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের।কলকাতাতেও জোগান কম থাকায় পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে উঠেছে যে ব্যারাকপুর, ডানলপ, মানিকতলা, বেলঘরিয়া ও শ্যামবাজারের অটোচালকেরা জ্বালানির খোঁজে ভিড় জমাচ্ছেন হাওড়ার গ্যাস পাম্পগুলিতে। এর জেরে সকাল থেকেই পাম্পগুলিতে দীর্ঘ লাইন থাকছে। অন্য দিকে, বাইরের চালকদের ভিড় বাড়তেই ক্ষোভে ফুঁসছেন হাওড়ার অটোচালকেরা। কোথাও কোথাও দু’পক্ষের মধ্যে বচসার ঘটনাও ঘটেছে।

হাওড়া আঞ্চলিক পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়া স্টেশন, সালকিয়া, জিটি রোড-সহশহরের আশপাশের মোট ২০টি রুটে অটো চলে প্রায় ৯০০টি। কিন্তু এলপিজি না পাওয়ায় সেইসংখ্যা এখন কমে অর্ধেকে হয়েছে। এর জেরে তীব্র ভোগান্তি শুরু হয়েছে। সব থেকে সমস্যায় পড়েছেন উত্তর হাওড়ার ঘাসবাগান,পিলখানা, জে এন মুখার্জি রোড, সালকিয়া স্কুল রোড, ডন বস্কো রুটের অটোযাত্রীরা। কারণ, ওই সব রুটে ১৬০টি অটোর মধ্যে গ্যাস-সঙ্কটের কারণে সম্প্রতি রাস্তায় নেমেছে মাত্র ৬৫টি। অন্য দিকে, হাওড়া স্টেশন থেকে সালকিয়া চৌরাস্তা রুটে মোট ১০৯টি অটো চলে। সেই সংখ্যাও কমে দাঁড়িয়েছে অর্ধেকে। এমনকি হাওড়া স্টেশন থেকে শিবপুর ট্রামডিপো ও ডোমজুড় থেকে ধূলাগড় পর্যন্ত ৭২টি অটোর মধ্যেও অর্ধেক সংখ্যক এখন চলাচল করছে। এর ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন ছোট ব্যবসায়ীরাও। একই অবস্থা বেলুড় স্টেশন-চাঁদমারি, লিলুয়া-ভট্টনগর, বামনগাছি-বাঁধাঘাট রুটেও।শ্রীরাম ঢ্যাং রোডের বাসিন্দা সোমেশ দত্ত বলেন, ‘‘অটো না পেয়ে টোটোয় চাপব কী! সুযোগ বুঝে টোটোও ২০ টাকার জায়গায় ৩০-৩৫ টাকা চাইছে।’’

গত ১০ দিনেরও বেশি সময় ধরে হাওড়ার একাধিক পাম্পে এলপিজি সরবরাহ কার্যত তলানিতে ঠেকেছে। পাম্প কর্মীদের দাবি, যেখানে আগে ৩-৪ দিনে একটি এলপিজি ট্যাঙ্ক খালি হত, এখন তা এক দিনেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। মূলত, কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার অটোচালকেরা গাড়ি নিয়েহাওড়ায় চলে আসায় এলপিজির চাহিদা এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গিয়েছে।

সম্প্রতি উত্তর হাওড়ার একটি গ্যাস স্টেশনে গিয়ে দেখা গেল, বরাহনগর, জোড়াসাঁকো থেকেও প্রচুর সংখ্যক অটোচালক ভিড় করেছেন সেখানে। ফলে এলাকার অটোচালকেরা রীতিমতো ক্ষুব্ধ। এই নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বচসার ঘটনাও ঘটছে। তাঁদের অভিযোগ, সারা বছর এই পাম্পগুলির উপরে নির্ভর করেই তাঁরা গাড়ি চালান। সঙ্কটের সময়ে বাইরের গাড়িকে কেন অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা।

আরও পড়ুন