‘আক্রান্ত’ বিএলও বিমলি টুডু হাঁসদা। —নিজস্ব ছবি।
অবৈধ ভোটার বলে চিহ্নিত করায় এক বুথ স্তরের আধিকারিক বা বিএলও-কে শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ উঠল হুগলির ডানকুনিতে। পাল্টা ওই বিএলও-র কর্মপদ্ধতি এবং এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। শনিবার এ নিয়ে শোরগোল ডানকুনির ২ নম্বর ওয়ার্ডে।
ডানকুনির ২ নম্বর ওয়ার্ডের ৫ নম্বর বুথের বিএলও বিমলি টুডু হাঁসদার অভিযোগ, তাঁর দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার ঠিক পাশেই ৬ নম্বর বুথ এলাকার এক ভোটার সম্পর্কে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কিছু তথ্য দিয়েছিলেন। তার পরেই আব্দুল রহিম গাজি নামে ওই যুবক এবং তাঁর পরিবারের রোষানলে পড়েছেন। শারীরিক হেনস্থা করা হয়েছে তাঁকে। গাজির স্ত্রী বাড়ি বয়ে গিয়ে তাঁকে শাসাচ্ছেন বলে দাবি বিএলও-র। তিনি বলেন, ‘‘উনি একজন বাংলাদেশি। সেই কথা আমার ঊর্ধ্বতনকে জানিয়েছিলাম। তার পরেই আমার উপর চড়াও হন ওঁরা।’’ বিএলওর আরও দাবি, আব্দুল রহিম গাজির ভোটার তালিকায় নাম নেই। তিনি বর্ধমানের একজনকে অভিভাবক দেখিয়ে নাম তুলতে চেয়েছিলেন। সেই এই কথা তিনি ঊর্ধ্বতনকে জানিয়েছিলেন। তার পরেই আক্রমণের মুখে পড়েছেন। বিএলও বলেন, ‘‘আমাকে জুতো দিয়ে মেরেছে। প্রতিবেশীরা দেখেছেন। ওঁর স্ত্রী আমার বাড়িতে এসে অশান্তি করছে। আমি পুলিশকে জানিয়েছি।’’
স্থানীয় সূত্রে খবর, গাজির স্ত্রী রানি বিএলও বিমলির সঙ্গে একটি নার্সিংহোমে কাজ করেন। কর্মক্ষেত্রে দু’জনের গন্ডগোল হয়েছিল। রানির দাবি, ওই গন্ডগোলের সঙ্গে এসআইআরকে টেনে আনছেন বিএলও। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, তাঁরাই দু’পক্ষের অশান্তি থামিয়েছেন। এর পর সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর শেখ আশরফ হোসেন সমাধানের চেষ্টা করেন। তিনি দু’পক্ষকে ডেকেছিলেন। কিন্তু বিএলও যাননি। তিনি ডানকুনি থানায় অভিযোগ করেছেন।
ওই গন্ডগোল নিয়ে ডানকুনির ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আশরফ বলেন, ‘‘কে বাংলাদেশি, কে ভারতীয়, এটা নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু ওই বিএলও যে অভিযোগ করছেন মারধরের, তিনি মহিলাদের নিয়ে গিয়ে ওঁর কাছে গিয়েছিলেন। একজন মহিলা যদি দশটা মানুষের সামনে জামার কলার ধরে মারধর করেন, তখন তিনি কী করবেন? ওঁর কাজ তথ্য দেওয়া। উনি এগুলো করতে পারেন না।’’