—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
রাজ্যে পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে বহু জায়গায় ধাক্কা খাচ্ছে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ডের পরিষেবা। কিছু জরুরি ক্ষেত্র ছাড়া এই কার্ডের বিনিময়ে পরিষেবা দেওয়া অনেকটাই বন্ধ করেছে গ্রামীণ হাওড়ার বেশ কিছু নার্সিংহোম। হুগলির আরামবাগে পরিষেবা এখনও বন্ধ না হলেও বিভিন্ন নার্সিংহোম ও বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাওনা টাকা মিলবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে বহু ক্ষেত্রে গরিব রোগীরা বিপাকে পড়ছেন।
হাওড়ার উলুবেড়িয়া, বাগনানের মতো মফস্সল শহরে ব্যাঙের ছাতার মতো নার্সিংহোম গড়ে উঠেছে। এ সব নার্সিংহোমের প্রায় প্রতিটির মান (গ্রেড) অনুযায়ী স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের বিনিময়ে চিকিৎসা পরিষেবার সুবিধা মেলে। ফলে, অনেক গরিব মানুষ উপকৃত হন। কি্ন্তু একাধিক নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, নতুন সরকার এই প্রকল্প চালু রাখবে কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা না আসা পর্যন্ত তাঁরা পরিষেবা দিতে ভরসা পাচ্ছেন না।
হাওড়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক কিশলয় দত্ত বলেন, ‘‘নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত পুরনো সরকারের সব নির্দেশিকা চালু থাকে। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে পরিষেবা মিলছে না, এমন যদি নির্দিষ্ট অভিযোগ আসে, খতিয়ে দেখা হবে।’’
উলুবেড়িয়ার একটি নার্সিংহোমের কর্ণধার দীপক দাস বলেন, ‘‘ডায়ালিসিসের মতো জরুরি পরিষেবা আমরা স্বাস্থ্যসাথীতে দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু যে সব অস্ত্রোপচার এখনই না করলেও চলে, সে সব ক্ষেত্রে আমরা রোগীদের কয়েক দিন পরে আসতে বলছি। ততদিনে স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে নতুন সরকারের মনোভাব পরিষ্কার হয়ে যাবে।’’
বাগনানের একটি নার্সিংহোমের মালিক বাপি মোল্লাও বলেন, ‘‘আমরা ডায়ালিসিস, অ্যাঞ্জিয়োগ্রামের মতো জীবনদায়ী পরিষেবা স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের বিনিময়ে চালু রেখেছি। খুব জরুরি নয়, এমন পরিষেবার জন্য রোগীদের সপ্তাহখানেক অপেক্ষা করতে বলছি।’’
গ্রামীণ হাওড়ার নার্সিংহোম মালিকদের একাংশ মনে করছেন, নতুন সরকার যদি স্বাস্থ্যসাথী বন্ধ করে দেয়, তা হলে তাঁরা এই কার্ডের বিনিময়ে আগের সরকারের চলে যাওয়া এবং নতুন সরকার গঠনের অন্তবর্তী সময়ে যে চিকিৎসা পরিষেবা দেবেন, তার মূল্য পাবেন না।
দীপক বলেন, ‘‘ডায়ালিসিসের মতো জরুরি পরিষেবা দিচ্ছি ঝুঁকি নিয়েই। যদি স্বাস্থ্যসাথীর টাকা না পাই, তা হলে সেই খরচ আমাদের পকেট থেকে যাবে। তবে, মানবিকতার স্বার্থে এটুকু ঝুঁকি আমাদের নিতেই হচ্ছে।’’
বিভিন্ন নার্সিংহোম সূত্রের খবর, আপাতত পিত্তথলিতে পাথর, অ্যাপেনডিক্স, হার্নিয়া অস্ত্রোপচার বা ভাঙা হাড় জোড়ার কাজ হচ্ছে না স্বাস্থ্যসাথীতে। বাগনানের বাসিন্দা শেখ আইনাল বলেন, ‘‘ছেলের পিত্তথলিতে পাথর জমেছে। অস্ত্রোপচার করতে হবে। কিন্তু কোনও নার্সিংহোম স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে ভর্তি নিতে চাইছে না। আমি গরিব মানুষ। কী যে করব, বুঝতে পারছি না।’’
হুগলির আরামবাগেও বেশ কিছু নার্সিংহোম রয়েছে। এখানে অবশ্য স্বাস্থ্যসাথীতে সব পরিষেবাই চালু রয়েছে। তবে, মহকুমার নার্সিংহোম মালিকদের সংগঠন ‘আরামবাগ নার্সিংহোম প্রোগ্রেসিভ অ্যাসোসিয়েশন’-এর কর্তা শেখ ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘‘রোগীকে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। বিশেষ করে ডায়ালিসিস রোগীদের পরিষেবা স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমে হয়। তবে সরকারের থেকে টাকা পাওয়া নিয়ে আমাদের অনেকেরই দুশ্চিন্তা থেকে গিয়েছে।’’
চুঁচুড়ার মল্লিক কাশেম হাটের কপিডাঙা এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের মালিক সঞ্জয় সিংহ জানান, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসা করাতে গেলে সংশ্লিষ্ট রোগীর তথ্য নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টালে দিতে হয়। সেখানে অনুমোদন মেলা মানেই চিকিৎসা করানো যাবে। তিনি বলেন, ‘‘শুক্রবার পর্যন্ত অনুমোদন মিলেছে। এ দিন এখানে অনেক রোগীর স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে ডায়ালিসিস হয়েছে। পোর্টালে যখন অনুমোদন মিলেছে, তখন টাকা না মিললে আদালতে যাওয়ার সংস্থান থাকবে।’’
তথ্য সহায়তা: পীযূষ নন্দী ও সুদীপ দাস