SIR Related Death In Bengal

চার বার শুনানিতে ডাক! ডানকুনিতে ঝালমুড়ি বিক্রেতার হঠাৎ মৃত্যুতে এসআইআর-কে দুষছে পরিবার

আনোয়ারের বাড়ি হুগলির ডানকুনি পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডে। পরিবার এবং প্রতিবেশীদের দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া চলাকালীন চার দফায় ডাক পড়েছিল তাঁর। মৃত্যু নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:০১
SIR Related Death In Bengal

গ্রাফিক: এআই সহায়তায় প্রণীত।

দোকান গুটিয়ে সকলের সঙ্গে গল্প করেছেন। পরিচিত চায়ের দোকানে চা খেয়ে নাতিদের জন্য চিপ্‌সের প্যাকেট নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। সকালে সেই ঝালমুড়ি দোকানদারের মৃত্যুতে পরিবার-প্রতিবেশীরা দুষছে এসআইআর প্রক্রিয়াকে।

Advertisement

অভিযোগ, চার বার শুনানিকেন্দ্রে ডাকা হয়েছিল বছর ষাটের শেখ আনোয়ারকে। ওই নিয়ে চিন্তায় ছিলেন কোনও রকমে সাংসার চালানো বৃদ্ধ। সোমবার তাঁর মৃত্যুর খবরে শোরগোল এলাকায়।

আনোয়ারের বাড়ি হুগলির ডানকুনি পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডে। পরিবার এবং প্রতিবেশীদের দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া চলাকালীন চার দফায় ডাক পড়েছিল তাঁর। যখন যে নথি বলেছেন, দিয়েছেন। তার পরেও কোথায় ভুল হচ্ছিল বুঝতে পারছিলেন না তিনি। আনোয়ারের ঝালমুড়ির দোকানের পাশে চায়ের দোকান শেখ সামসুদ্দিনের। তাঁর কথায়, ‘‘দোকান গুটিয়ে আমার কাছে এল। চা খেল। গল্প করল। নাতিদের জন্য চিপ্‌সের প্যাকেট কিনল। জিজ্ঞাসা করলাম, ‘এসআইআরের শুনানিতে আবার গিয়েছিলে? সব জমা করেছো?’ বলল, ‘হ্যাঁ।’ একটা লোককে চার বার শুনানিতে ডেকেছে। তার চিন্তা হবে না তো কার হবে? ওই চিন্তাতেই মানুষটা মারা গেল। সকালে উঠে শুনলাম, ও নেই!’’

রবিবার আনোয়ারের দোকান থেকে ঝালমুড়ি কিনেছিলেন শেখ সইফুদ্দিন। তিনি বলেন, ‘‘সন্ধ্যা ৭টায় ওর কাছে ঝালমুড়ি কিনলাম। কিছু ক্ষণ পরে দেখলাম চায়ের দোকানে চা খাচ্ছে। সকালে শুনলাম, লোকটা নেই! উনি এখানকারই লোক। ঝালমুড়ির দোকান ছিল। এসআইআর-আতঙ্কেই মৃত্যু হয়েছে ওর।’’

স্থানীয় সূত্রে খবর, দিন কয়েক আগে চতুর্থ নোটিস পাঠানো হয়েছিল আনোয়ারকে। এলাকার পাঁচ জনের সই নিয়ে নথি জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর আগেই মৃত্যু হল বৃদ্ধের। মনে করা হচ্ছে, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন ওই ব্যক্তি। তৃণমূলের অভিযোগ, এ ভাবেই এসআইআরের কারণে মৃত্যু তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। মানুষকে হয়রানি করছে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকার। পাল্টা বিজেপির খোঁচা, ‘‘হৃদ‌্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেও এসআইআর। স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে গলায় দড়ি দিলেও এসআইআর। সব মৃত্যুতেই এসআইআরকে জুড়ছে শাসকদল। এসআইআর নিয়ে ভয়ের পরিবেশ যদি তৈরি হয়ে থাকে, তার জন্য দায়ী ওরা।’’

Advertisement
আরও পড়ুন