হুমায়ুন কবীর ব্রিগেডে সভা করার অনুমতি পাননি। —ফাইল চিত্র।
ব্রিগেডে হুমায়ুন কবীরের দল জনতা উন্নয়ন পার্টিকে সভা করার অনুমতিই দিল না ভারতীয় সেনা। শুক্রবার অনুমতি চাইতে সেনার দফতরে গিয়েছিলেন হুমায়ুনেরা। কিন্তু তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। পাল্টা মুর্শিদাবাদেই বিশাল জমায়েতের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হুমায়ুন। ১০ লক্ষ মানুষ নিয়ে ওই জমায়েত হবে বলে দাবি করেছেন তিনি।
গত মাসে নিজের নতুন দলের নাম ঘোষণা করেছিলেন হুমায়ুন। ব্রিগেডে সভা করার কথাও জানান। কিন্তু ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড ভারতীয় সেনাবাহিনীর অধীনে রয়েছে। সেখানে সভার জন্য সেনার অনুমতি প্রয়োজন হয়। হুমায়ুনদের দাবি, সেনার তরফে তাঁদের শুক্রবার দেখা করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সেনা জানিয়ে দিয়েছে, ব্রিগেডে কোনও রাজনৈতিক দলকেই সভার অনুমতি আর দেওয়া হবে না।
সেনার তরফে বিকল্প হিসাবে হুমায়ুনদের শহিদ মিনারে সভা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হুমায়ুনেরা তা মানেননি। দাবি, তাঁদের বিরাট জমায়েতের স্থান সংকুলান হবে না শহিদ মিনারে। পরিবর্তে আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে মুর্শিদাবাদেই ১০ লক্ষ লোকের জমায়েতের আয়োজন করবেন, হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হুমায়ুন। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনও রাজনৈতিক দল ব্রিগেডে সভার অনুমতি পায় কি না, তা-ও নজরে রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। সে ক্ষেত্রে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন হুমায়ুন।
ব্রিগেডে সভার অনুমতি না পেয়ে হুমায়ুন বলেন, ‘‘নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে আমরা আবেদন করেছিলাম। সেনা আমাদের শুক্রবার দেখা করতে বলেছিল। সেইমতো আমাদের জনতা উন্নয়ন পার্টির পক্ষ থেকে সেনার দফতরে দেখা করা হয়। কিন্তু তারা জানিয়েছে, ব্রিগেডে কোনও রাজনৈতিক সভার অনুমতি দেওয়া হবে না। বিকল্প হিসাবে শহিদ মিনারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তাতে আমাদের আপত্তি আছে। আমরা নজর রাখছি ভবিষ্যতে অন্য কোনও রাজনৈতিক দলকে সেনা ব্রিগেডে সভার জন্য অনুমতি দেয় কি না।’’
এর আগে দুপুরে কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন হুমায়ুন। সেখানে দীর্ঘ ক্ষণ সেনা দফতরে বসিয়ে রাখার অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। তখনই জানিয়ে দিয়েছিলেন, ব্রিগেডে সভার অনুমতি না-পেলে ১ ফেব্রুয়ারি মুর্শিদাবাদে ৫০ বিঘা জমিতে বড় জমায়েত করবেন। ব্রিগেডে সভা করতে না পেরে তৃণমূল এবং বিজেপিকে একযোগে আক্রমণ করেন হুমায়ুন। বলেন, ‘‘কেন অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না, তার কারণ বুঝতে পারছি না। নিশ্চয়ই এতে কারও ইঙ্গিত রয়েছে। এর নেপথ্যে রাজ্য সরকারের হাত থাকতে পারে, বিজেপির হাতও থাকতে পারে। এখন তো হুমায়ুন কবীর তাদেরও মাথাব্যথার কারণ হয়েছে। সত্যিই যদি ব্রিগেডে ১০ লাখ লোক হয়, তা হলে তো সরকারের মৃত্যুঘণ্টা বেজে যাবে।’’