SIR Work in West Bengal

‘এত কম সময়ে কাজ শেষ হবে তো?’ এসআইআর-বৈঠকে উদ্বেগপ্রকাশ কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির

সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ মেনে শনিবার এসআইআর নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসেছিলেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:৩৬
Is it possible to do so much work in such a short time, Calcutta High Court Chief Justice Sujoy Pal expressed concern in a meeting on SIR

এসআইআর নিয়ে শনিবার বৈঠক করেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) কাজে তথ্যগত অসঙ্গতির নথি যাচাই এবং তা নিষ্পত্তি করার দায়িত্ব এখন থেকে রাজ্যের বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, এই কাজ করবেন বিচারকেরা! কারা এই কাজ করবেন, তা ঠিক করার দায়িত্ব কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের উপরই দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে সেই কাজ শেষ হবে তো? তা নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করলেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি।

Advertisement

সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ মেনে শনিবার এসআইআর নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসেছিলেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল। ছিলেন ডিজিপি, অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এবং অ্যাডভোকেট জেনারেলও। সেই বৈঠকেই এসআইআরের নথি যাচাইয়ের কাজ শেষ করা নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি।

তথ্যগত অসঙ্গতির বিষয় খতিয়ে দেখতে প্রায় ৪৫-৫০ লক্ষ ভোটারের নথি যাচাই করতে হতে পারে রাজ্যের বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের। এত কম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা যাবে কি না, তা নিয়ে বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি। এসআইআরের কাজে এই মুহূর্তে কত জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে নিযুক্ত করা সম্ভব তা-ও নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনকে জানিয়েছেন তিনি। সূত্রের খবর, আপাতত ২৫০ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে নিযুক্ত করা সম্ভব বলে বৈঠকে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। রবিবার কমিশনের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করতে পারেন তিনি। সেখানে যাবতীয় কাজ নিয়ে আলোচনা হবে।

সূত্রের আরও খবর, সেই বৈঠকে কমিশনের তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয়, প্রতি বিধানসভার জন্য এক জন করে বিচার বিভাগীয় (জুডিশিয়াল) অফিসার নিয়োগের জন্য। কমিশন বৈঠকে আরও জানিয়েছে, বিধানসভা, জেলাভিত্তিক তথ্যগত অসঙ্গতির (লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি) তালিকা বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের দেবে তারা। রবিবার বেলা ১২টার মধ্যে সেই তালিকা দেওয়া হবে। সোমবার থেকে আবার নথি যাচাই এবং নিষ্পত্তির কাজ শুরু হবে।

অন্য দিকে, আগামী ৯ মার্চ পর্যন্ত রাজ্যের সব বিচারকের ছুটি বাতিলের নির্দেশ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অসুস্থতা জনিত কারণ ছাড়া কোনও বিচারক ছুটি নিতে পারবেন না। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, যাঁদের বদলি করা হয়েছে, তাঁদের নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে নতুন জায়গায় যোগ দিতে হবে। তাঁরা ‘ট্রানজিট লিভ’ নিতে পারবেন না। শুধু তা-ই নয়, আগামী ৯ মার্চ পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় আধিকারিক এবং বিচারকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি স্থগিত থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। রাজ্যের বাইরে কোনও প্রশিক্ষণ বা সেমিনারে অংশগ্রহণের অনুমতিও বাতিল করা হয়েছে। হাই কোর্ট আরও জানিয়েছে, চিকিৎসাজনিত কারণ ছাড়া যাঁরা ছুটিতে রয়েছেন আগামী সোমবারের মধ্যে তাঁদের কাজে যোগ দিতে হবে। নির্দেশ অমান্য হলে, তা কঠোর ভাবে দেখা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন