অগ্নিকাণ্ডের পরের দিন বুধবার বিকেলে তিলজলার কারখানার সামনে বুলডোজ়ার। — নিজস্ব চিত্র।
আগুন ধরেছিল মঙ্গলবার দুপুর ১টার কিছু পরে। অগ্নিকাণ্ডের ৩০ ঘণ্টার মধ্যে শুরু হয়ে গেল তপসিয়ার সেই কারখানা ভাঙার কাজ। একটি বুলডোজ়ারও নিয়ে যাওয়া হয়েছে ঘটনাস্থলে। বুলডোজ়ার দিয়ে ভাঙা হচ্ছে কারখানাটি। তপসিয়ার অগ্নিকাণ্ডে ইতিমধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে পেয়েছে রাজ্যের নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার দুপুরেই জানিয়েছেন, কারাখানাটি অবৈধ ভাবে চলছিল। ওই অবৈধ পরিকাঠামো এক দিনের মধ্যে ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। ওই নির্দেশের কয়েক ঘণ্টা মধ্যেই তপসিয়ার সেই কারখানা ভাঙার কাজ শুরু হয়ে গেল।
কারখানা ভাঙার সময়ে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না-হয়, তা নিশ্চিত করতে এলাকায় মোতায়েন রয়েছে পুলিশবাহিনী। মোতায়েন রাখা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও। মঙ্গলবার দুপুরে তপসিয়ার ৫০/১ জিজে খান রোডের ঠিকানায় এক বহুতলের দোতলায় চামড়ার কারখানায় আগুন লাগে। এলাকাটি তিলজলা থানার অন্তর্গত। দ্রুত সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু হয়। দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও তিন জন। বুধবার বিকেলে ওই ভবন সংলগ্ন এলাকা ব্যারিকেড করে ঘিরে দেওয়া হয়।
কী ভাবে ওই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবারই একটি অনুসন্ধান কমিটি গড়েছিল রাজ্যের নতুন সরকার। ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে বুধবার দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানান, তিলজলার ওই কারখানার কোনও বিল্ডিং প্ল্যান নেই। আগুন থেকে সুরক্ষার যে সাধারণ ব্যবস্থা থাকার কথা, তা-ও সেখানে ছিল না। সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে কারখানা চলছিল বলে জানান তিনি।
ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চামড়া কারখানার মালিক জাফর নিশারকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিলজলার ঘটনার পরে কলকাতায় যত অবৈধ বিপজ্জনক কারখানা রয়েছে, সবগুলির জলের লাইন কেটে দেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। বিকেলে রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা জানান, যে অবৈধ ভবনগুলির ফায়ার লাইসেন্স বা এনওসি নেই, সেগুলিকে নোটিস পাঠানো শুরু হচ্ছে। ওই ভবনের মালিকদের প্রথমে শুধরে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। তার পরেও নিয়ম না মানলে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক পদক্ষেপ করা হবে বলে জানান অগ্নিমিত্রা। তিনি আরও জানান, তপসিয়ার ওই ভবনটিতে সিঁড়ি এতটাই সরু ছিল যে সেখান থেকে লোকে নামতে পারেননি। পিছন দিকে লোহার ঘোরানো সিঁড়ি থাকা উচিত ছিল বলেও মনে করেন তিনি।