অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মীয়ের বাড়িতে সিআইডি হানা। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে ফের সিআইডি হানা। এ বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বোন তথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর এক পিসির বাড়িতে গিয়েছিলেন রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকেরা। বেলা পৌনে ২টোর পর থেকে অভিযান চলেছে। সিআইডি ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় ৩টের আগে। প্রায় এক ঘণ্টা গোয়েন্দারা ছিলেন অভিষেকের পিসির বাড়িতে। সূত্রের খবর, ভোটপ্রচারে অভিষেকের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মামলা হয়েছে। সেই সূত্রেই এই বাড়িতে হানা দিয়েছে সিআইডি।
কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে সিআইডি আধিকারিক। —নিজস্ব চিত্র।
বিধানসভা ভোটের প্রচারে গিয়ে ৪ মে গণনার পর ডিজে বাজানোর কথা বলেছিলেন অভিষেক। অভিযোগ, তাঁর সেই মন্তব্য উস্কানিমূলক। সেই সংক্রান্ত মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। মমতার এক বোনের নাম রিনা গায়েন ওরফে নান্টি। ২৯/ডি হরিশ চ্য়াটার্জি স্ট্রিটে থাকেন তিনি। তাঁর কন্যা অদিতি গায়েনকে দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অভিষেকের সঙ্গে বার বার দেখা গিয়েছে। সূত্রের খবর, অভিষেকের সমাজমাধ্যম টিমের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে যুক্ত এই অদিতি। সমাজমাধ্যমের কার্যকলাপ যেমন সামলান, অভিষেকের কর্মসূচি নির্ধারণে তদারকিও করেন। এমনকি, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ফুটবল তারকা লিয়োনেল মেসির সঙ্গে অদিতিকে ছবি তুলতে দেখা গিয়েছিল। তাঁদের বাড়িতে বৃহস্পতিবার ১টা ৫০ মিনিট নাগাদ পৌঁছোয় সিআইডি-র প্রতিনিধিদল। এই বাড়ি থেকে মমতার বাড়ি দূরত্ব ২৫০ মিটার।
এর আগে অন্য মামলায় একাধিক বার অভিষেকের বাড়িতে সিআইডি গিয়েছে। বিধানসভায় সই জাল কাণ্ডে সিআইডি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িতে গিয়ে অভিষেককে নোটিস দিয়েছিল। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ ভবানী ভবনের সিআইডি দফতরে হাজিরাও দিয়েছেন একাধিক বার। সই কাণ্ডে দু’দিন এবং উস্কানিমূলক মন্তব্যের মামলায় তাঁকে এক দিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে সিআইডি দফতরে। কিছু দিন আগে অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে খুঁজতে মাঝরাতে কালীঘাটে হানা দেয় শালবনি থানার পুলিশ। তালা ভেঙে তারা বাড়িতে ঢুকেছিল। যদিও সেখান থেকে সুমিতের খোঁজ মেলেনি। এ বার একই রাস্তায় মমতা-অভিষেকের আর এক আত্মীয়ের বাড়িতে গেল সিআইডি। অভিষেকের ওই বিতর্কিত মন্তব্যের মামলার সঙ্গে মমতার বোন বা তাঁর কন্যার ঠিক কী যোগাযোগ, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সম্প্রতি তৃণমূলের আইটি সেলের দায়িত্ব থেকে দেবাংশু ভট্টাচার্যকে সরিয়ে সেই জায়গায় আনা হয়েছে উপাসনা চৌধুরীকে। সিআইডি অভিযানের সময় কালীঘাটে তিনি ছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘ডিজে মন্তব্যের আগে অমিত শাহ ভোটের প্রচারে এসে বলেছিলেন, উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করে দেবেন।তা নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, বাড়িতে সাদা থান পাঠাবেন। আর ভোট চলাকালীন বা তার আগেপরে তো প্রশাসন বিজেপির হাতেই ছিল। কোনও মন্তব্য ভুল মনে হলে তখন কেন কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি? এটা আসলে বিরোধী কণ্ঠকে রোধ করার চেষ্টা। এ ভাবে আমাদের দমানো যাবে না।’’