RG Kar Case

‘সিবিআই-কে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া ভুল ছিল’, অভিযোগ করল আরজি করে নির্যাতিতা চিকিৎসক-ছাত্রীর পরিবার

আরজি কর-কাণ্ডের পরে সিবিআই শ্রীরামপুরের তৃণমূল বিধায়ক এবং হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির তৎকালীন চেয়ারম্যান সুদীপ্ত রায়ের বয়ান রেকর্ড করলেও নথিতে তার উল্লেখ নেই বলে অভিযোগ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৫৬
Family of RG Kar victim alleges, it was a mistake to give the CBI the responsibility of investigation

শুনানি পর্বের শেষে আর কী বললেন আরজি করকাণ্ডে নির্যাতিতার বাবা-মা? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আরজি করে খুন এবং ধর্ষণের মামলায় তদন্তকারী কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআই-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন নির্যাতিতার চিকিৎসক-ছাত্রীর বাবা। বৃহস্পতিবার শিয়ালদহ আদালতে শুনানি-পর্বের শেষে তিনি বলেন, ‘‘সিবিআই-কে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া ভুল ছিল।’’ তাঁর অভিযোগ, সিবিআই কার্যত কলকাতা পুলিশের শুরু করা তদন্তের পথই অনুসরণ করেছে। তাঁকা কোনও দাবি তুললেই সিবিআই-এর তরফে ‘সকলকে গ্রেফতার করা যায় না’ বলে যুক্তি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

Advertisement

আদালতে নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, সিবিআই আরজি কর কাণ্ডের বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ। সিবিআই এবং পুলিশমন্ত্রী ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের’ অংশ কি না, তা জানার জন্য তদন্তের দাবিও করা হয়েছে। এমনকি, নির্যাতিতার সঙ্গে শেষবার যে জুনিয়র ডাক্তারদের দেখা গিয়েছিল, তাঁদের গ্রেফতার করারও দাবি জানানো হয়েছে পরিবারের তরফে।

২০২৪ সালের অগস্টে ওই ঘটনার পরে শ্রীরামপুরের তৃণমূল বিধায়ক এবং আরজি কর হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান সুদীপ্ত রায়ের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত তদন্ত শুরু করলেও তাঁকে কার্যত ক্লিনচিট দেওয়া হয়েছে বলে নির্যাতিতার বাবার অভিযোগ। এর আগে আরজি কর মামলায় অভিযুক্ত পুলিশকর্মী অনুপ দত্তকে গ্রেফতারের দাবিতে ফের আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন নির্যাতিতার বাবা-মা।

বৃহস্পতিবার তাঁদের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, অনুপের নির্দেশেই ওই খুন-ধর্ষণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সঞ্জয় রায় আরজি কর হাসপাতালে গিয়েছিলেন। অনুপের পলিগ্রাফ টেস্টের ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আনারও দাবি জানানো হয় তাঁদের তরফে। সেই সঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, সুদীপ্ত রায়ের বয়ান রেকর্ড করা হলেও আদালতে পেশ করা সিবিআই নথিতে কেন তার উল্লেখ নেই। পাশাপাশি, সুদীপ্ত এবং অনুপ-সহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের তদন্তের আওতায় আনার দাবিও তোলা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৮ অগস্ট রাতে আরজি কর হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ে ধর্ষণ এবং খুন করা হয় এক চিকিৎসক-ছাত্রীকে। ওই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় কলকাতা পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে। প্রথমে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছিল পুলিশ। অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার হাতে নেয় সিবিআই। কলকাতা পুলিশের হাতে ধৃত সিভিককে হেফাজতে নেয় তারা। পরবর্তী সময়ে শিয়ালদহ আদালতে চার্জশিট জমা দেয় সিবিআই। তাতে একমাত্র অভিযুক্ত হিসাবে সঞ্জয়ের নামই উল্লিখিত ছিল। তাঁকে ইতিমধ্যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে নিম্ন আদালত।

জানুয়ারি মাসে আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং হত‍্যা মামলায় অষ্টম স্টেটাস রিপোর্ট (তদন্তে অগ্রগতির রিপোর্ট) জমা দেয় সিবিআই। তবে সেই স্টেটাস রিপোর্ট নিয়েও প্রশ্ন তোলে নির্যাতিতার পরিবার। তাদের আইনজীবী দাবি করেন, এই রিপোর্টে ‘ফলপ্রসূ’ কিছু নেই। কেন নির্যাতিতার মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হচ্ছে না, কাদের বাঁচানো হচ্ছে, এমন প্রশ্নও তোলা হয়। যদিও সিবিআইয়ের পাল্টা বক্তব্য ছিল, কাকে ডাকা হবে, কাকে নয়, সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। বৃহস্পতিবার সিবিআই-এর তরফে নির্যাতিতার পরিবারের বিরুদ্ধে তদন্ত অসহযোগিতার অভিযোগ তোলা হয়েছে। সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সংস্থার আইনজীবীর প্রশ্ন আদালতে মুখবন্ধ খামে যে স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে কি না। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই পুলিশকর্মী অনুপ বা নির্যাতিতার সঙ্গে ঘটনার রাতে যে জুনিয়র ডাক্তারদের দেখা গিয়েছিল তাঁদের গ্রেফতার করা যায় কি না, তা-ও ‘জানতে চান’ সিবিআইয়ের আইনজীবী।

Advertisement
আরও পড়ুন