— প্রতীকী চিত্র।
বনগাঁ-শিয়ালদহ শাখার চাঁদপাড়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেলের জমিতে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা দোকানপাট ও ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করা হল শনিবার রাতে। পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশনের উদ্যোগে ওই অভিযান হয়। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলি। মাথার ছাদ হারিয়েছেন তাঁরা।
ক্ষতিগ্রস্তেরা পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ এবং জীবিকা পুনর্গঠনের দাবিতে সরব হয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, বহু বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস ও ব্যবসা করার পরে হঠাৎ উচ্ছেদের ফলে তাঁরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। রবিবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় ধ্বংসস্তূপের ছবি। ভাঙা ইট, টিন, কাঠ ও অন্যান্য সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন ক্ষতিগ্রস্তেরা।
পূর্ব রেলের এক কর্তা জানিয়েছেন, রেলের উন্নয়নের স্বার্থেই অভিযান চলছে। গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর বলেন, ‘‘রেলের উন্নয়ন করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নমূলক কাজ আটকে ছিল। ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়টি রেল ও রাজ্য সরকার মানবিক ও সহানুভূতির সঙ্গে যাতে বিবেচনা করে, তা নিয়ে আমি কথা বলব।’’
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে সংশ্লিষ্ট বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের নোটিস দেওয়া হয় রেলের জমি খালি করতে বলে। অনেকে নোটিস পাওয়ার পরে স্বেচ্ছায় দোকানঘর ও ঘরবাড়ি সরিয়ে নেন। যাঁরা সরাননি, তাঁদের কাঠামো ভেঙে দেওয়া হয় শনিবার। তবে ওই স্টেশন সংলগ্ন রেলের জমিতে উচ্ছেদ অভিযান এখনও পুরো শেষ হয়নি। বাকি অংশের কাজও শীঘ্রই সম্পন্ন করা হবে বলে রেল সূত্রের খবর।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে সত্তরোর্ধ্ব সাবিত্রী দাস বলেন, ‘‘আমাদের উঠে যাওয়ার কথা মাত্র এক দিন আগে জানানো হয়েছিল। নিজেরাই ঘর ভেঙে নিয়ে এসে রাস্তার উল্টো দিকের একটি দোকানের সামনে ফুটপাতে রাত কাটাচ্ছি। ওই দোকানদারও বেশি দিন থাকতে দেবেন না। তার পর কোথায় যাব, জানি না।’’
চাঁদপাড়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন অলঙ্কারের ব্যবসা করা গৌতম শীর চোখ-মুখে হতাশার ছাপ। তাঁর দোকান ভাঙা পড়েছে। তিনি বলেন, ‘‘১৯৮৯ সাল থেকে এখানে আছি। আগে রেললাইনের ওপারে দোকান ছিল। ১৯৯৬ সালে ডোবা ভরাট করে বাজার গড়ে উঠলে এখানে চলে আসি। সব শেষ হয়ে গেল। পরিবারের চার জনকে নিয়ে পথে বসেছি। কী করব জানি না। আমাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক।’’