Taratala Godown Roof Collapse

লোহার বিমে লেগে রক্তমাংস! তারাতলায় ভেঙে পড়া গুদাম থেকে এ পর্যন্ত উদ্ধার ১৩, কত জন এখনও আটকে স্পষ্ট নয়

ক্রেন দিয়ে ভেঙে পড়া লোহার বিম তোলার চেষ্টা চলছে। তার নীচেই আটকে আছেন শ্রমিকেরা। ঠিক কত জন আটকে আছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। লোহার বিমে লেগে আছে রক্তমাংস।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ ১৪:৫৫
তারাতলায় ভেঙে পড়া গুদাম থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে শ্রমিকদের।

তারাতলায় ভেঙে পড়া গুদাম থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে শ্রমিকদের। ছবি: সারমিন বেগম।

তারাতলায় ভেঙে পড়া নির্মীয়মাণ গুদাম থেকে এখনও পর্যন্ত উদ্ধার করা গিয়েছে ১৩ জনকে। তাঁদের গুরুতর জখম অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, ইন্দ্রনীল খাঁ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। তারাতলার ঘটনার খবর পেয়ে তিনি বিকেলে নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক বাতিল করে দিয়েছেন। ক্রেন দিয়ে ভেঙে পড়া লোহার বিম তোলার চেষ্টা চলছে। তার নীচেই আটকে আছেন শ্রমিকেরা। ঠিক কত জন আটকে আছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। লোহার বিমে লেগে আছে রক্তমাংস।

Advertisement

কলকাতা পুরসভার পুরকমিশনার স্মিতা পাণ্ডে, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ, পুলিশের ডিসি-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক ঘটনাস্থলে রয়েছেন। রয়েছে একাধিক অ্যাম্বুল্যান্স। আহতদের উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গেই যাতে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া যায়, সময় যাতে নষ্ট না হয়, তার জন্য অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত।

স্থানীয় সূত্রে খবর, তারাতলার গুদামটিতে নির্মাণের কাজ চলছিল গত দেড় বছর ধরে। গুদামের কয়েক তলা উঁচু ছাদ বুধবার বেলার দিকে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। অনেক শ্রমিক সেখানে কর্মরত ছিলেন। সূত্রের দাবি, লোহার কাঠামোর উপর কংক্রিটের স্তর চাপানো হয়েছিল। স্থানীয়েরা জানাচ্ছেন, সকাল থেকেই কাঠামোটি নড়ছিল। তা পরখ করতে গিয়েছিলেন কয়েক জন শ্রমিক। তখনই আচমকা ছাদ ধসে পড়ে। নীচে সকলে চাপা পড়ে যান। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, এটি বন্দর কর্তৃপক্ষের জমি। মুন্সিগঞ্জের সংস্থা বেহরা ব্রাদার্স বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জমিটি ৩০ বছরের জন্য লিজ় নিয়েছিল। তারা অয়ন ট্রেডার্স নামের আর একটি সংস্থাকে গুদামটি তৈরির বরাত দেয়। তারাই গত দেড় বছর ধরে গুদামে নির্মাণকাজ চালাচ্ছিল। গুদামের ঠিকাদারও ভিতরে আটকে পড়েছেন বলে খবর। বেহরা ব্রাদার্সের প্রতিনিধিদের থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে।

তারাতলার গুদাম থেকে বার করা হচ্ছে আহতদের।

তারাতলার গুদাম থেকে বার করা হচ্ছে আহতদের। ছবি: সারমিন বেগম।

দমকল কর্তৃপক্ষের কাছে তারাতলার বিপর্যয়ের খবর যায় বেলা ১২টার পর। একাধিক গাড়ি সেখানে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া, ভারতীয় সেনা, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছে।

দুমড়েমুচড়ে গিয়েছে লোহার বিম। তারাতলার গুদামে।

দুমড়েমুচড়ে গিয়েছে লোহার বিম। তারাতলার গুদামে। ছবি: সারমিন বেগম।

একাধিক ক্রেন ঘটনাস্থলে রয়েছে। ৫০ টন পর্যন্ত ওজন তুলতে পারে, এমন হাইড্রোলিক ক্রেনও ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভেঙে পড়া কাঠামোর পিছন দিকে একটি জায়গা দিয়ে প্রথমে মাটি কেটে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন উদ্ধারকারীরা। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। পরে উপরের দিকে মাঝ বরাবর লোহার বিম কেটে ফাঁকা স্থান তৈরি করা হয়। সেখান দিয়ে ভিতরে যাতে হাওয়া ঢুকতে পারে, জল পৌঁছে দেওয়া যায়, তার বন্দোবস্ত করেন উদ্ধারকারীরা। ওই ফাঁকা অংশ দিয়ে ভিতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের দেখা গিয়েছে। রয়েছেন মহিলারাও। এক মহিলাকে সেখান থেকে কোনও রকমে টেনে বার করেছেন উদ্ধারকারীরা। তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একাধিক দিক থেকে চলছে উদ্ধারকাজ।

হাইড্রোলিক ক্রেন নিয়ে যাওয়া হয়েছে তারাতলার ঘটনাস্থলে।

হাইড্রোলিক ক্রেন নিয়ে যাওয়া হয়েছে তারাতলার ঘটনাস্থলে। ছবি: সারমিন বেগম।

কয়েক হাজার বর্গফুট জুড়ে বিস্তৃত এই গুদামের ভিতরে একটি জায়গায় ছিল শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা। কে কোথায় থাকতে পারেন, ছাদ ভেঙে পড়ার আগের মুহূর্তে কোন দিকে শ্রমিকেরা ছিলেন, তা বোঝার জন্য স্থানীয় নিরাপত্তারক্ষীদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। লোহার বিম সরানোর জন্য ক্রেনের সঙ্গে তা বাঁধা হয়েছে।

ভিতরে কোথায় কে আটকে আছেন, কী অবস্থায় আছেন, জানার জন্য উদ্ধারকারীরা টর্চ হাতে ঘুরছেন। হ্যান্ড মাইকের সাহায্যে তাঁরা চিৎকার করছেন। ভিতরে কেউ আটকে আছেন কি না, জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে। ৩০ থেকে ৫০ জন আটকে থাকতে পারেন বলে স্থানীয়দের দাবি। অনেকেই প্রিয়জনকে খুঁজতে ঘটনাস্থলে এসেছেন। গুদাম চত্বর জুড়ে হাহাকার পড়ে গিয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন