Ritabrata Banerjee

তাঁরাই তৃণমূল, দাবি জানাতে এ বার ‘প্রমাণ’-সহ জ্ঞানেশ কুমারের দরবারে যাবেন ঋতব্রতেরা! দিল্লি থেকে বার্তা পাওয়া গেলেই রওনা

ইতিমধ্যেই কমিশনের সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়েছে ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল। ঋতব্রত শিবিরের তরফে জানানো হয়েছে, কমিশন তাঁদের সময় দিলেই দিল্লির নির্বাচন সদনে যাবেন তাঁরা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ ১৫:১৬
(বাঁ দিকে) জ্ঞানেশ কুমার এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) জ্ঞানেশ কুমার এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

তৃণমূল তাঁদেরই দল! এমন দাবি নিয়ে এ বার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরে যেতে চাইছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়েরা। ইতিমধ্যেই কমিশনের সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়েছে ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল। ঋতব্রত শিবিরের তরফে জানানো হয়েছে, কমিশন তাঁদের সময় দিলেই দিল্লির নির্বাচন সদনে যাবেন তাঁরা।

Advertisement

ঋতব্রত-শিবির সূত্রে খবর, সোমবারের বৈঠকে তাঁরা যে দলের জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করেছেন, তার তালিকা কমিশনকে দেওয়া হবে। পরিষদীয় শক্তির বিচারে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক রাশও যে তাঁদের দিকে, তা দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে বোঝাবেন ঋতব্রতেরা। তৃণমূলের এক বিদ্রোহী বিধায়কের কথায়, “আমরা কমিশনের কাছে দেখা করার সময় চেয়েছি। কমিশনের সদর দফতর থেকে অনুমতি দেওয়া হলেই আমরা দিল্লি গিয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরব।” ঋতব্রতদের এই পদক্ষেপকে অবশ্য কটাক্ষ করেছে কালীঘাট তৃণমূল। শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ওঁদের তো আইনের জ্ঞান প্রচুর। যেখানে খুশি যাক।”

প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, কমিশন দেখা করার সময় দিলে আগামী সপ্তাহেই দিল্লি যাবেন ঋতব্রতেরা। ১০ জনের একটি প্রতিনিধিদল দেখা করবেন কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে। কেন তাঁদের ‘আসল’ তৃণমূলের মর্যাদা দেওয়া হবে, তা ‘প্রমাণ’-সহ তুলে ধরবেন ওই প্রতিনিধিরা। মঙ্গলবারই কলকাতায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দফতরে গিয়েছিলেন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কদের বেশ কয়েক জন। সূত্রের খবর, নতুন তৃণমূলের কর্মসমিতির ৩০ জন সদস্য-সহ পদাধিকারীদের নাম এবং সোমবারের বৈঠকের কার্যবিবরণী সিইও দফতরে জমা দেন ঋতব্রতেরা। সিইও দফতর থেকে বেরিয়ে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বলেন, “ ‘‘আমরা কমিশনের কাছে কোনও স্মারকলিপি জমা দিতে আসিনি। কিছু নথি দিয়েছি। সেগুলি প্রকাশ্যে আনা যায় না।’’

প্রসঙ্গত, সোমবার ঋতব্রতদের বৈঠকের পরে রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে তৃণমূলের চেয়ারপার্সন দাবি করে জাতীয় কর্মসমিতির তালিকা জমা দিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনে। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসাবে রাখা হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। তার পরেই তৎপরতা বৃদ্ধি করে ঋতব্রত শিবির। গত ৫ জুন তৃণমূলের বৈঠকে জাতীয় কর্মসমিতিতে রদবদল করা হয়। তার পরে দেখা যায় অনেকে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন। গত সপ্তাহে ফের তালিকা পরিমার্জন করে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসদের নাম বাদ দেন মমতা। যুক্ত করেন রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হকের নাম। তার পর সেই তালিকা পাঠানো হয় কমিশনে। এর পরে ঋতব্রতেরা সোমবার সর্বভারতীয় তৃণমূলের ‘বিশেষ অধিবেশন’ ডেকেছিলেন। জেলা থেকে আসা বহু নেতা যোগ দিয়েছিলেন বৈঠকে। সেখান থেকে মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূলের’ চেয়ারম্যান করা হয়। ৩০ জনের জাতীয় কর্মসমিতিও গঠন করা হয় সেই বৈঠকে।

Advertisement
আরও পড়ুন