Sushanta Ghosh

হকারদের থেকে বহু কোটি ‘তুলেছেন’ সুশান্ত

প্রায় ১৯ দিন ফেরার থাকার পরে বুধবার পুরী থেকে সুশান্তকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। এ দিন আলিপুরের অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে সুশান্তকে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে, এজলাসে আনা হয়নি।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ ০৯:১৯
আলিপুর কোর্ট চত্বরে সুশান্ত ঘোষ।

আলিপুর কোর্ট চত্বরে সুশান্ত ঘোষ। ছবি: সুমন বল্লভ।

নগরোন্নয়ন দফতরের নামে তৈরি জাল নথি দিয়ে তিনি হকারদের থেকে কোটি কোটি টাকা তুলেছেন। সরাসরি প্রতারিত হয়েছেন অন্তত ৯৫০ জন। কারও কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে তিন লক্ষ, কারও কাছ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা। কাউকে দিতে হয়েছে আরও বেশি! পুরী থেকে ধৃত কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রতিনিধি সুশান্ত ঘোষকে বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হলে এমনই অভিযোগ করেন সরকারি আইনজীবী। যদিও বেআইনি আর্থিক লেনদেনে তাঁর যোগ নেই বলে দাবি করেন সুশান্তের আইনজীবী। সুশান্তকে ২৮ জুন পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয় আদালত।

প্রায় ১৯ দিন ফেরার থাকার পরে বুধবার পুরী থেকে সুশান্তকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। এ দিন আলিপুরের অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে সুশান্তকে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে, এজলাসে আনা হয়নি। তদন্তকারী অফিসার আদালতে লিখিত ভাবে জানান, সুশান্ত-ঘনিষ্ঠ সাত জন পুলিশি হেফাজতে। তাঁদের নিয়ে নানা জায়গায় তল্লাশি চলেছে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি মিলেছে। সুশান্ত আর্থিক প্রতারণার পাশাপাশি তোলাবাজি ও বেআইনি ভাবে সম্পত্তি দখলের নানা ঘটনাতেও জড়িত।

সরকারি আইনজীবী সৌরীন ঘোষাল সুশান্তের ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘‘নিজের এলাকায় সিন্ডিকেট গড়ে সশস্ত্র বাহিনী তৈরি করেন সুশান্ত। জমি দখল, তোলাবাজি থেকে নানা সমাজবিরোধী ও দেশদ্রোহী কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন। অতীতে তাঁর উপরে সশস্ত্র হামলার পিছনেও ছিল জোর করে সম্পত্তি দখলের ঘটনা। জাল নথির মাধ্যমে সুশান্তের নেতৃত্বে সিন্ডিকেট বাহিনী কোটি কোটি টাকা লুট করেছে হকারদের দোকান করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। প্রায় ৯৫০ জনের থেকে টাকা লুট করা হয়েছে। এই বিপুল টাকার হদিস পাওয়া প্রয়োজন। অস্ত্রের খোঁজেও তাঁকে কয়েক দিন হেফাজতে রাখা দরকার।’’

আন্তর্জাতিক জলাভূমি সংরক্ষণ প্রকল্প ‘রামসার সাইট’-এর তালিকাভুক্ত পূর্ব কলকাতা জলাভূমি ঘিরে সুশান্তের একাধিক জমি-দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। কসবা, রাজডাঙা, ইন্দু পার্ক-সহ বিভিন্ন এলাকায় ছিল তাঁর একচ্ছত্র প্রভাব। আগে ওই অঞ্চলের ১০৭ নম্বর ওয়ার্ডের পুরপ্রতিনিধি ছিলেন সুশান্ত। পরে ওয়ার্ড বদলায়। তিনি ১০৮ নম্বরের পুরপ্রতিনিধি হলেও ১০৭ নম্বরের পুরপ্রতিনিধির সঙ্গে তাঁর বিবাদ শিরোনামে উঠে আসে। শহরের ওই এলাকাতেই গত ১০ বছরে সব চেয়ে বেশি পুকুর বোজানোর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি জমির হাতবদল এবং বিক্রির অভিযোগও সব চেয়ে বেশি এই দুই ওয়ার্ডে। ১০৭ ও ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডে ১৯০টিরও বেশি এমন জমি রয়েছে, যেগুলি সরকারি হলেও বেআইনি ভাবে হাতবদল হয়েছে। ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যেই রয়েছে গুলশন কলোনি, মার্টিনপাড়া। সেখান থেকে অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে একাধিক জনকে ধরা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের আইনজীবী প্রশান্ত মজুমদারের দাবি, ‘‘অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দিতেন সুশান্ত। তাঁদের ভুয়ো ভোটার ও আধার কার্ড তৈরি করে দিতেন। অনুপ্রবেশকারীদের থেকে কত টাকা তুলেছেন, জানা উচিত।’’ সুশান্তের আইনজীবী সুব্রত সর্দার জামিনের আর্জি জানিয়ে বলেন, ‘‘সুশান্ত-ঘনিষ্ঠ সাত জন গ্রেফতার হয়েছেন। তাঁদের ও সুশান্তের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মধ্যে লেনদেন হয়নি। জাল নথি দেখিয়ে টাকা তোলার অভিযোগ করা হলেও সেই নথি আদালতে পেশ করা হয়নি।’’ সরকারি আইনজীবী বলেন, ‘‘যদি কোনও অপরাধ না-ই করে থাকেন, তা হলে পালিয়েছিলেন কেন? তিনি শ্রীক্ষেত্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পুলিশ তাঁকে শ্রীঘরে পৌঁছে দিয়েছে।’’

আরও পড়ুন