এনআইএ-র হাতে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লা। —ফাইল চিত্র।
শওকত মোল্লা ‘অত্যন্ত প্রভাবশালী’। ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলায় ধৃত অন্য অভিযুক্তদের নিরাপত্তার খাতিরে প্রেসিডেন্সি ছাড়া অন্য কোনও সংশোধনাগারে রাখা হোক ধৃত তৃণমূল নেতাকে— মঙ্গলবার আদালতের সামনে এমনই আর্জি রাখল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। তাদের এই দাবি এবং অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ধৃতের আইনজীবী। তাঁর অভিযোগ, গোটাটাই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে বোমা বিস্ফোরণ মামলায় চার্জশিট পেশ করেছে এনআইএ। দক্ষিণ বামুনিয়ায় বিস্ফোরণের মামলা হাতে নেওয়ার ৮৭ দিনের মাথায় ৬৫ পাতার চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। চার্জশিটে নাম রয়েছে প্রাক্তন বিধায়ক এবং ২০২৬ সালে ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী শওকতেরও। এ ছাড়া ধৃত আহিদুল ইসলাম মোল্লা এবং রহমত আলি মোল্লার বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা পড়েছে। বিস্ফোরক আইনে মামলা রুজু হয়েছে সকলের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার কলকাতা নগর দায়রা আদালতে এনআইএ দাবি করেছে, পরিকল্পনামাফিক এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। গত মার্চ মাসে দক্ষিণ বামুনিয়া গ্রামে বোমা বিস্ফোরণের পরে গ্রেফতার হন আহিদুল। বিজয়গঞ্জ বাজার এলাকার ওই বাসিন্দাকে অন্যতম ষড়যন্ত্রী বলে এর আগেই উল্লেখ করেছিল এনআইএ। তদন্তে উঠে আসে বোমা তৈরি থেকে হামলার ছক, সবেতেই তিনি জড়িত ছিলেন। পরে এই মামলায় শওকত-সহ মোট চার জন গ্রেফতার হয়েছেন।
আদালতে এনআইএ জানিয়েছে, ভোটের আগে ভয় দেখানোর জন্য বোমা বাঁধা হচ্ছিল। যাতে পরে ফেঁসে না যান, সে কারণে পরিকল্পনা করেই শওকতের এলাকার বাইরে ওই কাজ করা হচ্ছিল। তারা এ-ও দাবি করেছে যে, মামলার বাকি অভিযুক্তেরা তাঁদের সুরক্ষার জন্য ভাবিত। সেই কারণে শওকতকে প্রেসিডেন্সি ব্যতীত অন্য কোনও সংশোধনাগারে রাখা যেতে পারে পরে। তাতে শওকতের আইনজীবীর বিস্মিত প্রশ্ন, ‘‘এ বার ওঁরা জেলটাও বলে দেবেন!’’ তার পাল্টা এনআইএ-র আইনজীবী বলেন, ‘‘এটা আমরা সুরক্ষার জন্য বললাম। আমরা তো বিচারবিভাগীয় হেফাজতের আবেদন জানাচ্ছি। শওকত রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবশালী।’’ তখন শওকতের আইনজীবী জানান, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্যই দিতে পারেনি জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা।
এনআইএ বলেছে, ঘটনার সময় শওকত বিধায়ক ছিলেন। তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী। উনি যেহেতু বিধায়ক ছিলেন, সে জন্য ওঁর নামে অভিযোগ করার সাহস পাননি কেউ। স্থানীয়েরা থানাতেও ওঁর নাম বলেননি। এর মধ্যে এক অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে। দু’জনের নামে চার্জশিট দেওয়া হল। পাশাপাশি, অভিযোগ করা হয়েছে তদন্তে শওকত সহযোগিতা করছেন না। যার প্রেক্ষিতে শওকতের আইনজীবী প্রশ্ন করেন, এফআইআরের সময় তবে কেন শওকতের নামে অভিযোগ করল না এনআইএ। আইনজীবীর প্রশ্ন, ‘‘ওঁরা কি প্রভাবিত হয়ে গেছিলেন?’’
আগামী ১৯ জুন পর্যন্ত শওকতের এনআইএ হেফাজতের নির্দেশ থাকলেও মঙ্গলবার তাঁকে আগাম হাজির করানো হয় আদালতে। এ বার বিচারবিভাগীয় হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে। আদালতে আনার সময় শওকতকে লক্ষ্য করে কাঁচা ডিম ছোড়েন কয়েক জন। ওঠে ‘মাছচোর-মাছচোর’ স্লোগান। তদন্তকারীদের দাবি, ‘‘আমরা যখন গ্রেফতার করতে যাই, উনি (শওকত) বাংলাদেশে পালাবার চেষ্টা করছিলেন।’’ এই কথায় আপত্তি জানিয়েছেন শওকতের আইনজীবী। তিনি এর প্রমাণ চান। এর পরেই মুলতবি হয়ে যায় শুনানি।