—প্রতীকী চিত্র।
বর্ষা এসে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই ভারী বৃষ্টিতে নিউ টাউনের অনেক জায়গায় জল দাঁড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ওই এলাকার বিভিন্ন রাস্তার পাশে গালিপিটের মুখে নির্মাণ সামগ্রী জমে থাকা। ‘নিউ টাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’ (এনকেডিএ) তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এ বার যত দ্রুত সম্ভব ওই সব গালিপিট পরিষ্কার করে ফেলা হবে।
বিগত সরকারের আমলে এনকেডিএ পরিকল্পনা করেছিল, রাস্তার ধারে নির্মাণ সামগ্রী জড়ো করে রাখলে সংশ্লিষ্ট নির্মাণ সংস্থাকে নোটিস পাঠানো হবে। তার পরেও নির্মাণ সামগ্রী না সরালে ওই সংস্থা কিংবা প্রোমোটারকে জরিমানা করা হবে। কিন্তু অন্দরের খবর, নোটিস হামেশাই পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। নির্মাণ সামগ্রী রাস্তার পাশে ফেলেই রাখা হচ্ছে। এনকেডিএ-র আধিকারিকেরা জানাচ্ছেন, রাস্তার ধারে পড়ে থাকা বালি, পাথরকুচির ধুলো এবং ছোট ছোট পাথরের কুচি গালিপিটের মুখ বন্ধ করে দিচ্ছে। এখন সে সব না সরালে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হলেই এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়বে। গত বছর এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে নিউ টাউনের কোনও কোনও ব্লকের বাসিন্দাদের। এমনিতে নিউ টাউনের রাস্তায় জমা জল বাগজোলা খালে গিয়ে পড়ে। জল জমলে পাম্প চালিয়ে তা খালে ফেলে দেয় এনকেডিএ। কিন্তু গালিপিট বন্ধ থাকলে জল নিকাশি নালায় যেতেই পারবে না।
রাজ্যে পালাবদলের পরে অনেক পুরসভা এলাকাতেই নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে প্রশাসনিক স্তরের উপর মহলের উপযুক্ত নজরদারি না থাকায়। এনকেডিএ-তেও তেমনই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে খবর। নিচু স্তরের আধিকারিকেরা উপর মহলের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাতে কাজের জন্য বাড়তি সময় লাগছে। সূত্রের খবর, সাপুরজি, তারুলিয়া, আঠারোতলার মতো যে সব জায়গায় নির্মাণকাজের আধিক্য রয়েছে, সেখানে রাস্তার উপরেই নির্মাণ সামগ্রী পড়ে থাকে সব সময়ে। এ ছাড়া, অ্যাকশন এরিয়া ১ এবং ২-এর কিছু এলাকাতেও এই সমস্যা রয়েছে বলে খবর। উল্লেখ্য, বিগত সরকারের আমলে নিউ টাউনের বিভিন্ন নির্মাণস্থলের উপরে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের প্রভাব ছিল। ফলে, অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি এনকেডিএ।
জানা গিয়েছে, পরিস্থিতি কার্যত একই রকম নিউ টাউনের পার্শ্ববর্তী বিধাননগর ও পাঁচ নম্বর সেক্টরেও। পুর বোর্ড ভেঙে যাওয়ায় প্রশাসক বসেছে বিধাননগরে। কিন্তু প্রশাসনিক স্তরের সঙ্গে এলাকার যোগাযোগ সব সময়ে ঠিক মতো হয়ে উঠছে না। যার ফলে, নাগরিক পরিষেবার কাজ ব্যাহত হচ্ছে কোথাও কোথাও।