গোলপার্কে তাণ্ডবের ঘটনায় গ্রেফতার ১০ অভিযুক্ত। — প্রতীকী চিত্র।
কলকাতার গোলপার্কে গন্ডগোলের ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। রবিবার রাতে রবীন্দ্র সরোবর থানা এলাকার গোলপার্কের কাঁকুলিয়া রোডে তাণ্ডব চালায় দুষ্কৃতীরা। চলে গুলি। বোমাবাজির অভিযোগও ওঠে। এমনকি পুলিশের গাড়িও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। রাতের ওই ঘটনায় উঠে আসে দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পুর দলবলের নাম। এ বার ওই তাণ্ডবের ঘটনায় ১০ জনকে পাকড়াও করল রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ।
ধৃতদের বয়স ১৮ থেকে ৩৮ বছরের মধ্যে। অভিযুক্তদের মধ্যে পাঁচ জন রবীন্দ্র সরোবর থানা এলাকারই বাসিন্দা। বাকিদের বাড়ি কসবা থানা এলাকায়। গোলমালের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছিল পুলিশ। কলকাতার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার ভোলানাথ পাণ্ডেও ঘটনাস্থলে পৌঁছোন। রাতেই আশপাশের এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে শুরু করে পুলিশ। শুরু হয় তল্লাশি। রবীন্দ্র সরোবর থানা এলাকার পাশাপাশি কসবাতেও তল্লাশি চলে। ওই অভিযানেই গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্তদের।
স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ ঝামেলার সূত্রপাত হয়। গোলপার্কের কাছে পঞ্চাননতলায় একটি ক্লাবের পিকনিক হচ্ছিল। সেখানে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে অশান্তি হয় বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন দুষ্কৃতী মুখে রুমাল বেঁধে এলাকায় চড়াও হয়। গুলি চালানো এবং বোমাবাজির অভিযোগও ওঠে। হামলা করা হয় ধারালো অস্ত্র নিয়েও। রাস্তায় পুলিশের গাড়ি এবং স্থানীয়দের বাইকও ভাঙচুর করা হয়। ছোড়া হয় ইটও। রাস্তা থেকে গুলির খোল এবং বোমার সুতলি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার রাতের ওই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ সোনা পাপ্পুর দলবলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন। গত বছর গণেশপুজোতেও সোনা পাপ্পুর দল এলাকায় তাণ্ডব চালিয়েছিল বলে অভিযোগ এলাকাবাসীদের। তবে ধৃতেরা প্রত্যকেই সোনা পাপ্পুর দলের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গোলপার্কে গত রাতের তাণ্ডবে অন্তত দু’জন জখম হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। তাঁদের মধ্যে এক জনের নাম গণেশ দাস। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। সনৎ সিংহ নামে অপর এক জনের মাথায় আঘাত লেগেছে।