তারাতলায় ভেঙে পড়া নির্মীয়মাণ গুদাম। — ফাইল চিত্র।
দুর্ঘটনার কবলে পড়া তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদামের পরিকাঠামোগত নকশা হাতে পেল লালবাজারের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। অনুমোদিত সেই নকশা দেওয়া হবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের। মূল নকশা মেনে ওই গুদাম তৈরি হচ্ছিল নাকি কিছু বদলেছে— তা খতিয়ে দেখবেন তাঁরা।
গত বুধবার তারাতলায় এক চায়ের গুদামের নির্মীয়মাণ কাঠামো ভেঙে পড়ে। শনিবার পর্যন্ত ১৬ জনের প্রাণহানির খবর রয়েছে। নিয়ম মেনে নকশা তৈরি হয়েছিল কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ওই নকশা তৈরির ক্ষেত্রে কোনও আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না, তা-ও তদন্তকারীদের আতশকাচের নীচে রয়েছে।
প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট এলাকার উপর গড়ে ওঠা গুদামঘরটি নির্মাণ কাজ চলছিল গত দেড় বছর ধরে। সেই গুদামের নকশা ত্রুটিপূর্ণ কি না, সেটাই ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের। শনিবারই তারাতালাকাণ্ডে তদন্ত শুরু করেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞেরা। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং-এর অধ্যাপক পার্থপ্রতিম বিশ্বাস। তিনি জানিয়েছিলেন, খতিয়ে দেখা হবে, ওই গুদামঘর নির্মাণে ঠিক কী ধরনের সামগ্রী ব্যবহার হয়েছিল, নকশা কেমন ছিল, নির্মাণের সময় কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না।
অন্য দিকে, এই ঘটনায় ধৃত আব্দুল হামিদের বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। সূত্রের খবর, এই নকশা অনুমোদনে ‘দালাল’ হিসাবে তিনি কাজ করেছিলেন বলে জেরায় স্বীকার করেছেন হামিদ। তবে ঠিক কত টাকার লেনদেন হয়েছিল এবং কার কার কাছে সেই টাকা পৌঁছেছিল, সেই সব প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। হামিদকে জেরা করে বেশ কিছু তথ্য মিলেছে। সেই সূত্র ধরে তদন্ত চালাচ্ছে সিট।