রোনাল্ড কোমান। ছবি: রয়টার্স।
মরক্কোর কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে নেদারল্যান্ডস। প্রশ্ন উঠেছে কোডি গাকপো, ভার্জিল ভ্যান ডাইকদের রক্ষণাত্মক ফুটবল নিয়ে। ম্যাচের পর সাংবাদিক বৈঠকে এই প্রশ্ন উঠতেই মেজাজ হারালেন নেদারল্যান্ডসের কোচ রোনাল্ড কোমান। পরিষ্কার বলে দিলেন, মরক্কোর বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও এ ভাবেই খেলাবেন দলকে।
বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডেই নেদারল্যান্ডস ছিটকে যাবে, ভাবতে পারেননি ফুটবলপ্রেমীদের একটা বড় অংশ। মরক্কো গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট হলেও আশা করা হয়েছিল, প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে যাবে কমলা ব্রিগেডই। নির্ধারিত এবং অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ ফলে শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে জিতেছে অফ্রিকার দেশটি। স্বাভাবিক ভাবেই পরিকল্পনা, রণকৌশল নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে নেদারল্যান্ডস কোচকে।
কোমান দলের কৌষশল নিয়ে বলেছেন, ‘‘রক্ষণাত্মক কৌশল নেওয়ায় গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর তুলনায় আমরা প্রতিপক্ষকে অনেক কম সুযোগ দিয়েছি। এটা ইতিবাচক দিক। তবে এটাও ঠিক আমরা আক্রমণেও পিছিয়ে ছিলাম।’’ তা হলে কি ভুল কৌশলেই হার? এক সাংবাদিকের এই প্রশ্ন শুনেই চটে যান কোমান। তিনি বলেন, ‘‘আপনি কৌশল নিয়ে যা খুশি ভাবতে পারেন। কিন্তু এটাও ঠিক সুইডেন এবং টিউনিশিয়ার চেয়ে অনেক শক্তিশালী একটা দলকে আমরা অনেক কম সুযোগ দিয়েছি। আমাকে আবার এই ম্যাচ খেলতে হলে, ঠিক এ ভাবেই খেলব।’’
সমালোচকদের বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন না কোমান। তিনি বলেছেন, ‘‘মরক্কো শেষ মুহূর্তে গোলটা দিতে না পারলে নেদারল্যান্ডসের কোচ হিসাবে অনেক প্রশংসা পেতাম। কিন্তু পাঁচ জন ডিফেন্ডার নিয়ে খেলার জন্য এখন সমালোচিত হচ্ছি। আপনারা আমার সমালোচনা করতেই পারেন। এটা আপনাদের অধিকার। তবে আপনারা কিন্তু মাঠের বাইরে থেকে ফুটবল দেখেন। আমি দলের সঙ্গে রয়েছি। জানি কোথায় কোথায় উন্নতি প্রয়োজন। কী ভাবে উন্নতি সম্ভব তা-ও জানি। আবার বলছি, এই ম্যাচটা আবার খেলতে হলে, ঠিক এ ভাবেই খেলব।’’
আপনি কি মরক্কোকে অতিরিক্ত সমীহ করেছিলেন? ভয় পেয়েছিলেন? কোমান বলেছেন, ‘‘কিসের ভয়! ভয়ের কিছু তো ছিল না। মাঠে আমাদেরও তিন জন স্ট্রাইকার ছিল। রক্ষণকে আরও সংগঠিত করার কথা ভাবতে হবে আমাদের। প্রতিপক্ষকে আরও বিশ্লেষণ করতে হবে। চাইলে আমরা আগামী কাল সন্ধ্যা পর্যন্ত আলোচনা চালিয়ে যেতে পারি। আপনাদের নিশ্চই নিজস্ব মতামত থাকতে পারে। সেটাকে আমি সম্মান করি। আমার কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু ফুটবল নিয়ে আমার ভাবনা একটু অন্য রকম।’’