ম্যাথেউস কুনহা। ছবি: রয়টার্স।
বিশ্বকাপে বিতর্কে জড়ালেন ব্রাজ়িলের স্ট্রাইকার ম্যাথেউস কুনহা। তাঁর বিরুদ্ধে জাপানের এক ফুটবলারকে অপমান করার অভিযোগ উঠেছে। রাউন্ড অফ ৩২-র ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজ়িল-জাপান। ওই ম্যাচের পর কুনহার একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে।
জাপানের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে ব্রাজ়িলের। একটা সময় পর্যন্ত পিছিয়ে ছিল ব্রাজ়িল। শেষ মুহূর্তের গোলে প্রিকোয়ার্টার ফাইনালের ছাড়পত্র পেয়েছে পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নেরা। এই ম্যাচে জাপানের কেন্তো শিয়োগাইকে করা তাঁর একটি অঙ্গভঙ্গিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। সমালোচনার মুখে পড়েছেন কুনহা।
ঘটনাটি ঘটেছিল সংযুক্ত সময়ে। যা টেলিভিশনের ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল। পরে সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে ঘটনার ভিডিয়ো। জয়সূচক গোলের পর নিজের জার্সিতে ব্রাজ়িলের লোগো এক হাতের পাঁচ আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছেন। সে সময় তাঁর অন্য হাতটি ছিল শিয়োগাইয়ের দিকে তাক করা। মুখেও কিছু বলতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। কুনহার এই আচরণের সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ম্যাচের আগে ব্রাজ়িলকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন শিয়োগাই। তিনি বলেছিলেন, ‘‘ব্রাজ়িল এখন আর আগের মতো নেই। ওরা এখন আর বিশ্ব ফুটবলের মহাশক্তি নয়।’’ মনে করা হচ্ছে, জয়সূচক গোলের পর জাপানের ফুটবলারকে তাঁর সেই মন্তব্যের জবাব তির্যক ভাবে দিয়েছেন কুনহা। পাঁচ আঙুল দিয়ে হয়তো বোঝাতে চেয়েছেন, ব্রাজ়িল পাঁচ বার বিশ্বকাপ জিতেছেন।
বিতর্ক তৈরি হওয়ায় সমাজমাধ্যমে ওই আচরণের ব্যাখ্যা দিয়েছেন কুনহা। ব্রাজ়িলীয় স্ট্রাইকারের বক্তব্য, ‘‘সকলকে সম্মান দিয়েই বলতে চাই, জাপানের একজন ফুটবলার যদি এত সফল ব্রাজ়িল দলকে নিয়ে এমন মন্তব্য করে, তা হলে মেনে নেওয়া কঠিন। ব্রাজ়িলের কেউ করলে আমরা মেনে নিই। কিন্তু বাইরের কেউ সমালোচনা করলে আমরা একসঙ্গে জবাব দিই।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘এটা জার্সির সম্মানের ব্যাপার। আমাদের আগে যাঁরা এই জার্সি পরেছেন, তাঁদের ঐতিহ্য বহন করছি আমরা। এই পর্যন্ত পৌঁছোতে আমাদের অনেকটা পথ পেরোতে হয়েছে। সেটার প্রতি সম্মান দেখানো উচিত।’’ নাম না করে কুনহা যে শিয়োগাইকেই জবাব দিয়েছেন, তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি ফুটবলপ্রেমীদের। তবু মাঠে তাঁর আচরণ মেনে নিতে পারেননি তাঁদের একাংশ। ব্রাজ়িলীয়কে সংযত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।