Child Death

দুই শিশুর মৃত্যুতে বিক্ষোভ বি সি রায়ে, চিকিৎসা না মেলার অভিযোগ

রবিবার দুপুরে শিশু-মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় হাসপাতাল চত্বরে। সূত্রের খবর, মৃত শিশুদের এক জনের বয়স দেড় বছর, অন্য জনের সাত বছর। দু’জনেরই জ্বর, সর্দি, ডায়রিয়ার সমস্যা ছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:১০

— প্রতীকী চিত্র।

হাসপাতালে ভর্তি নেওয়া হলেও কোনও চিকিৎসক দেখতে আসেননি। আবার, বার বার হাসপাতালে এলেও ভর্তি না নিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই দুই অভিযোগই উঠেছে দু’টি শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। আর বিনা চিকিৎসায় এই দু’টি মৃত্যুরই অভিযোগ উঠেছে বি সি রায় শিশু হাসপাতালের বিরুদ্ধে।

রবিবার দুপুরে শিশু-মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় হাসপাতাল চত্বরে। সূত্রের খবর, মৃত শিশুদের এক জনের বয়স দেড় বছর, অন্য জনের সাত বছর। দু’জনেরই জ্বর, সর্দি, ডায়রিয়ার সমস্যা ছিল। নিউ টাউনের বাসিন্দা, দেড় বছরের শিশুটির পরিজনদের দাবি, শনিবার সকালে তাকে ওই হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু কেউ তাকে দেখেননি। শুধুমাত্র ওআরএস লিখে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। শিশুটির বাবা আব্দুল রহিমের দাবি, ওই সময় তাঁদের বলা হয়েছিল, শরীর আরও খারাপ হলে পরের দিন নিয়ে আসতে। তিনি বলেন, ‘‘ছেলের শরীর আরও খারাপ হওয়ায় শনিবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ আবার নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু আবার বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিল।’’

পরিজনদের অভিযোগ, রবিবার সকাল থেকেই দেড় বছরের শিশুটি ক্রমশ নেতিয়ে পড়তে শুরু করে। দুপুরে ফের তাকে বি সি রায় শিশু হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেই সময়ও ভর্তি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। মা শামা পারভিন বলেন, ‘‘ছেলেটাকে একটু ভর্তি নিল না। বার বার শুধু ওআরএস খাওয়াতে বলে ছেড়ে দিল।’’ এর পরেই জরুরি বিভাগের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন ওই শিশুর পরিজনেরা। তত ক্ষণে জানা যায়, আরও একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তার পরিবার অভিযোগ তোলে, ভর্তি নেওয়া হলেও তেমন ভাবে কোনও চিকিৎসকই শিশুটিকে দেখেননি।

জানা যাচ্ছে, রাজারহাটের বাসিন্দা, সাত বছরের বালকটিকে জ্বর, সর্দি ও ডায়রিয়ার সমস্যা নিয়ে শনিবার রাতে ভর্তি করা হয়েছিল। অভিযোগ, শুধু স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছিল তাকে। বার বার বললেও আর কিছুই করা হয়নি। এ দিন দুপুরে ওই শিশুটিরও মৃত্যু হয়।

এ দিন দুপুরে দু’টি পরিবারই জরুরি বিভাগের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলে পুলিশের সঙ্গে দুই শিশুর পরিজনদেরই বচসা বাধে। জোর করে জরুরি বিভাগে ঢুকতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি বেধে যায়। জরুরি বিভাগ লক্ষ্য করে একটি শিশুর পরিজনেরা ইট ছোড়েন বলেও অভিযোগ। তবে কিছু ক্ষণের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

বি সি রায় শিশু হাসপাতালের অধ্যক্ষ দিলীপ পালের দাবি, ‘‘দেড় বছরের শিশুটি ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে এসেছিল। তাই ওআরএস খাওয়ানোর জন্যবলা হয়েছিল।’’ সাত বছরের শিশুটিকে ভর্তির পরে চিকিৎসক পরীক্ষা করে স্যালাইন চালাতে বলেন বলেই দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। তবে দু’টি পরিবারের তরফেইকোথাও কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

আরও পড়ুন