Hawker Eviction

হাওড়া-শিয়ালদহে দখলদার উচ্ছেদ রেলের! খুশি যাত্রীরা, তবে আচমকা অভিযান নিয়ে প্রশ্নও তুলছেন কেউ কেউ

পশ্চিমবঙ্গে সরকারে পালাবদলের পর থেকেই রেলের জমিতে দখলদার হটানোর প্রক্রিয়ায় গতি আসে। শুক্রবার রাতে অন্ধকারে হঠাৎই বুলডোজ়ার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় হাওড়া স্টেশন চত্বরের ফুটপাথের ১৫০-টির বেশি দোকান। শনিবারও একই ভাবে অভিযান চলেছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৮ মে ২০২৬ ২০:২৩
Railway started illegal hawker eviction in Howrah and Sealdah station

হাওড়া স্টেশনে দখলদার উচ্ছেদ করতে নামল বুল‌ডোজ়ার। ছবি: পিটিআই।

দু’দিন আগেও শিয়ালদহ, হাওড়া স্টেশনের একটা বড় অংশ ছিল হকারদের ‘দখলে’! নানা পসরা সাজিয়ে বসতেন বিক্রেতারা। কেউ নানা পদের খাবার বিক্রি করতেন, কেউ আবার বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। অভিযোগ, বেশির ভাগ হকারই বেআইনি ভাবে দখল করে দোকান গড়ে তুলেছিলেন। শুক্রবার থেকে হাওড়া, শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে বেআইনি হকার ‘উচ্ছেদ’ শুরু করেছে রেল। কখনও আবার বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে বুলডোজ়ারও নামানো হয়েছে। সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত শিয়ালদহ, হাওড়া স্টেশন চত্বরে প্রায় ৫০০টি অস্থায়ী ঝুপড়ি এবং ছোট দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। শুধু স্টেশন চত্বরে নয়, হাওড়ার বিভিন্ন এলাকায় বহুতলের বেআইনি নির্মাণ ভাঙতেও বুলডোজ়ার চালানো হয়।

Advertisement

শুক্রবার রাতে অন্ধকারে হঠাৎই বুলডোজ়ার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় হাওড়া স্টেশন চত্বরের ফুটপাথের ১৫০টির বেশি দোকান। শুধু শুক্রবার নয়, শনিবারও একই ভাবে অভিযান চলে। হাওড়ার পাশাপাশি, শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে বুলডোজ়ার নামানো হয়। শিয়ালদহ বিভাগের বিভিন্ন স্টেশন এবং স্টেশন চত্বরে থাকা অবৈধ নির্মাণ ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ।

রাতারাতি রেলের এই উচ্ছেদ অভিযানে বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। কারও দাবি, সকালে এসে দেখছেন তাঁর দোকান আর নেই। আবার কেউ কেউ জানাচ্ছেন, উচ্ছেদের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছোন। প্রায় সকলের মুখে একটাই অভিযোগ, রেল আচমকা উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে। দোকানের বিভিন্ন জিনিসপত্র সরিয়ে রাখার সময়টুকু পাননি বলে দাবি অনেকের। কেন এত কম সময়ের নোটিসে এই উচ্ছেদ অভিযান চালাল রেল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ব্যবসায়ীরা।

সোমবার হাওড়া, শিয়ালদহ চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, দোকান হারানো অনেকে রাস্তার উপরই ঝুড়ি বা ওই জাতীয় কিছুতে পসার সাজিয়ে বসেছেন। তবে কেউ যাতে আবার নতুন করে পুনর্দখল করতে না-পারেন, সে দিকে কড়া নজর রেলের। টহল দিচ্ছে আরপিএফ। কোথাও বেআইনি দখল দেখলেই হটিয়ে দিচ্ছে তারা।

হাওড়ার শরৎ চ্যাটার্জি রোডে বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে বুলডোজ়ার।

হাওড়ার শরৎ চ্যাটার্জি রোডে বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে বুলডোজ়ার। —নিজস্ব চিত্র।

হাওড়া হোক বা শিয়ালদহ— দুটোই শহরের ব্যস্ততম স্টেশন। প্রতি দিন লাখো লাখো লোক রুটিরুজির টানে এই দুই স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করেন। এমন যাত্রীদের মধ্যে রেলের এই উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। হকার উচ্ছেদ অভিযান অবশ্য এই প্রথম নয়। এর আগেও নোটিস জারি করে এলাকা ফাঁকা করেছে রেল। স্টেশন চত্বর থেকে হকারদের তুলে দেওয়ার ফলে যাত্রীদের একাংশ খুশি। তবে অনেকে আচমকা অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। যাত্রীদের একাংশের মতে, হকারদের কারণে ব্যস্ত সময়ে স্টেশন বা স্টেশন চত্বরে যাতায়াত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। তবে কেউ কেউ মনে করছেন, যাঁদের দোকান ভেঙে দেওয়া হল, তাঁদের জন্য কি সরকার কোনও ব্যবস্থা করে দেবে? এ ভাবে রুটিরুজি কেড়ে নেওয়ার কোনও অর্থ হয় না। আচমকা অভিযান না-চালিয়ে অন্তত কয়েক দিন সময় দেওয়া যেতে পারত।

বেআইনি উচ্ছেদ নিয়ে অনেক দিন ধরেই তৎপর রেল। তবে অভিযোগ, আগের সরকারের অসহযোগিতার কারণে এত দিন এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া গতি আনা যাচ্ছিল না। উচ্ছেদ করতে গেলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর তা সামলানোর দায়িত্ব পুলিশের। তৃণমূল সরকার সে ব্যাপারে সহযোগিতা না-করায় বেআইনি দখল হটানো সম্ভব হয়নি।

অন্য দিকে, হাওড়ার শরৎ চ্যাটার্জি রোডে তালপুকুর এলাকার একটি বহুতলের বেআইনি অংশ ভেঙে দেওয়া হল সোমবার। বুলডোজ়ার দিয়ে ওই বহুতলের নীচের দিকের বেআইনি অংশ ভাঙা হয়। তা ছাড়া, উপরে দু’টি তলাও ভেঙে দেন পুরকর্মীরা। বিল্ডিং বিভাগের দায়িত্বে থাকা এক আধিকারিক জানান, ওই বহুতলে দোতলা পর্যন্ত অনুমতি ছিল। কিন্তু সেখানে পাঁচতলার বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছিল। তাই এই অভিযান। হাওড়া পুরসভার কোথায় কোথায় বেআইনি নির্মাণ আছে, তার তালিকা তৈরি হচ্ছে।

Advertisement
আরও পড়ুন