—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
স্বামীকে ছেড়ে চলে এসেছিলেন বছর পাঁচেক আগে। যাঁর সঙ্গে সংসার বেঁধেছিলেন সেই যুবকেরও প্রথম স্ত্রী সংসারত্যাগ করেন আগে। পাঁচ বছর পর হঠাৎ লোকজন নিয়ে প্রথম স্বামী উপস্থিত হলেন স্ত্রীর নতুন শ্বশুরবাড়িতে। শুরু হয় মারামারি। অশান্তি থামাতে গিয়ে আক্রান্ত হয় পুলিশ। ঘটনায় পুরুষ-মহিলা-সহ মোট ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হুগলির চণ্ডীতলা থানা এলাকার ঘটনা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, চণ্ডীতলার কুমিরমোরা মাঝেরহাট বাগপাড়ায় বাসিন্দা কালীপদ বাগ ওরফে কালোর বিয়ে হয় ২০১৫ সালে। দুই কন্যাসন্তান হয় তাঁদের। কিন্তু কালোর দাম্পত্য সুখের হয়নি। কয়েক বছরের মধ্যে স্ত্রী সংসার ছেড়ে চলে যান। প্রথম বিয়ের ৬ বছর পর দ্বিতীয় বার বিয়ের পিঁড়িতে বসেন যুবক। দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীরও আগে একটি বিয়ে ছিল। তিনি স্বামীকে ছেড়ে কালোকে বিয়ে করেন। আগের পক্ষের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে মহিলার।
এখন কাজের সূত্রে ভিন্রাজ্যে থাকেন কালো। হায়দরাবাদে একটি গয়নার দোকানে কাজ করেন। বছরে কয়েক বার চণ্ডীতলার বাড়িতে আসেন। এর মধ্যে তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে সমস্যা শুরু হয়ে যায়। রবিবার তা চরম আকার নেয়।
স্থানীয়েরা জানাচ্ছেন, রবিবার সন্ধ্যায় কালোর দ্বিতীয় স্ত্রীর প্রথম স্বামী কয়েক জন প্রতিবেশীকে নিয়ে কালোর বাড়িতে হামলা চালান। দু’পক্ষের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। খবর যায় চণ্ডীতলা থানার পুলিশের কাছে। গ্রামবাসীদের নিরস্ত্র করার চেষ্টা করলে পুলিশের উপরেও আক্রমণ হয় বলে অভিযোগ। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। জখম হন পাঁচ পুলিশকর্মী।
ঘটনাক্রমে আরও বাহিনী যায় কালোদের গ্রামে। অশান্তির জেরে মোট ২৫ জনকে গ্রেফতার করেছে চণ্ডীতলা থানার পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ এবং১৩ জন মহিলা। সোমবার তাঁদের সকলকে শ্রীরামপুর মহকুমা আদালতে হাজির করানো হয়। বিচারক চার জনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। বাকিদের জেল হেফাজত হয়েছে। বিয়ে নিয়ে ‘বাড়াবাড়ি’তে চণ্ডীতলার গ্রামে এখন থমথমে পরিবেশ।