সোনা পাপ্পুকে গ্রেফতার করল ইডি। — ফাইল চিত্র।
গ্রেফতার কসবার ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু। ভোটের আগে থেকেই বার বার নানা কারণে খবরের শিরোনামে ছিলেন তিনি। বিভিন্ন অভিযোগে নাম জড়ালেও অধরা ছিলেন। তবে ভোটপর্ব মিটতেই সোমবার সকালে সল্টলেকে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেন পাপ্পু। সকাল থেকে টানা ৯ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে তাঁকে আর্থিক প্রতারণা এবং তোলাবাজি মামলায় গ্রেফতার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।
গত ফেব্রুয়ারিতে রবীন্দ্র সরোবর থানা এলাকায় গোলমালের ঘটনায় নাম জড়িয়ে যায় পাপ্পুর। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই গন্ডগোলের নেপথ্যে ছিলেন বিশ্বজিৎ। তাঁর সঙ্গীরাই গন্ডগোল, ভাঙচুর চালিয়েছিল। ওই ঘটনায় পুলিশ বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করলেও পাপ্পুর ‘নাগাল’ পায়নি। কোথায় তিনি গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন, তার খোঁজ চলছিল। তবে তার মধ্যে বার দুয়েক ফেসবুক লাইভে এসে পাপ্পু দাবি করেন, তিনি কোনও অশান্তির ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নন।
এই মামলা নিয়ে যখন পাপ্পুর খোঁজখবর চলছে, সেই সময় আচমকাই এক দিন তাঁর বাড়িতে হাজির হয় ইডি। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী জয় কামদারের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছিল। ওই অভিযানে টাকা ছাড়াও একটি দামি গাড়ি এবং বেশ কিছু সম্পত্তির নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়। ইডি সূত্রে জানা যায়, পাপ্পুর বাড়ি থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। যে বিদেশি পিস্তল তাঁর বাড়িতে মিলেছিল, তা কামদারের মাধ্যমে কেনা হয়েছিল বলে অভিযোগ। পিস্তলটি গড়িয়াহাট থানায় জমা করা হয়।
শুধু তা-ই নয়, পাপ্পুর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগও ওঠে। ইডি সূত্রে জানানো হয়, পাপ্পুর নামে বেশ কয়েকটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। তোলাবাজি, হুমকি-সহ নানা অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অস্ত্র আইনেও মামলা রয়েছে। এমন বেশ কিছু অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করে ইডি। ওই মামলায় বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদারকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকেরা। এই মামলার সূত্র ধরেই গত মাসে ফার্ন রোডে কলকাতার পুলিশকর্তা (ডিসি) শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইডি। পাপ্পুর মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে থানায় ডাকা হয়েছিল শান্তনুকে। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
জয় বা শান্তনু গ্রেফতার হলেও পাপ্পু কোথায়, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল নানা মহলে। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর খোঁজ না মেলায় তদন্তকারীরা মনে করছিলেন, ভিন্রাজ্যে গা ঢাকা দিয়েছেন পাপ্পু। কিন্তু ভিন্রাজ্যে থেকে থাকলে তিনি কী ভাবে অর্থের জোগান পাচ্ছেন, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়। তবে সোমবার আচমকাই সল্টলেকে ইডি দফতরে হাজিরা দেন পাপ্পু। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী। সকাল থেকে ম্যারাথন জেরার পর তাঁকে গ্রেফতার করলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। অতীতে তাঁকে একাধিক নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তবে প্রতি বারই হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন। তবে সোমবার বিনা নোটিসেই সিজিও-তে হাজিরা দেন পাপ্পু। ইডি সূত্রে খবর, তদন্তে অসহযোগিতার কারণে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।